বাংলাদেশি বোলারদের ‘বধ্যভূমি’ ইংল্যান্ড

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০৬ এএম

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ২০১৯ আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট হতে যাচ্ছে ব্যাটসম্যানদের। ইংলিশ সামারে খেলা। ইংল্যান্ডের উইকেট এই সময়টাতে থাকে তুলনায় বেশি পাটা। আর টুর্নামেন্টটা যেহেতু আইসিসির তাই রানের বিশ্বকাপ করার দিকেও থাকবে লক্ষ্য। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের ইংল্যান্ডে যে পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত তা কিন্তু খুব আশা জাগানো নয়।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে ৫ পেসার। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ১৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। তিনিই ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলার। গড় ৫২.৪০। সেরা ৩১ রানে ৩ উইকেট। সেরা বোলারের পরিসংখ্যান যদি এই কথা বলে তাহলে ভাববার বিষয় তো বটেই। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে ৯ ম্যাচ খেলবে সব দল। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে চ্যালেঞ্জ দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এবার নতুন করে সব বোলিং ফিগার লেখার।

দেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল সেদিন বলছিলেন, ‘আমার মনে হয়, ৩০০ রানে কোনো প্রতিপক্ষকে আটকাতে চাইলেও বোলারদের খুব ভালো বল করতে হবে। দুয়েকটা দিন ব্যতিক্রম যেতে পারে যেদিন আপনি ২৪০-২৫০ রানে (প্রতিপক্ষকে) অলআউট করে দিতে পারেন। আমার কাছে মনে হয়, ইংল্যান্ডে ৩০০ রান তাড়া করা সম্ভব। তাই এটার জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।’

তামিম ব্যাটসম্যানদের দৃষ্টিকোণ থেকে কথাগুলো বললেও সেখানে বোলারদের জন্য কী অপেক্ষা করছে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে। বিশ্বের সেরা সব দলের সেরা ব্যাটসম্যানরা বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে থাকবেন মুখিয়ে। সব দলের বোলারই পড়বেন চ্যালেঞ্জের মুখে। বাংলাদেশের বোলারদের অভিজ্ঞতা ওখানে কম বলে সেই চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডসও বললেন, ‘ইংল্যান্ডে বোলারদের কাজটা খুব কঠিন। উইকেট ফ্ল্যাট। অন্যকে যারা আউট করতে পারবে তাদের জন্য তা হবে দুর্দান্ত ব্যাপার। আমাদের লেগে থেকে উইকেট তুলতে হবে। ওখানে বড় রান করতে হতে পারে। আর সেটা ইংল্যান্ডে সহজ বটে।’

ফ্ল্যাট উইকেট বোলারদের জন্য যখন বধ্যভূমি ব্যাটসম্যানদের জন্য তখন আশীর্বাদ। ভারসাম্য রক্ষার দায় ব্যাটসম্যানদের। তামিম কিংবা রোডস যা বলছেন তার ভেতরে এও অনুচ্চারিত যে ব্যাটসম্যানরা বড় সংগ্রহ করতে পারলে বোলারদের ওপর নির্ভর করতে পারেন ওই ফ্ল্যাট উইকেটে। কিন্তু তারা আগে ব্যাট করে ব্যর্থ হলে যেমন সর্বনাশ তেমন সর্বনাশ সামনে বড় রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জ নিতে না পারলে।

ইংল্যান্ডের মাটিতে মাশরাফীর মতো বোলারের ৪ উইকেট নেই ম্যাচে। নেই কোনো বাংলাদেশি বোলারের। ক্যারিয়ারে মাশরাফীর ৫ উইকেট একবার। ৪ উইকেট ৭ বার। এর মধ্যে ৪ বার ৪ উইকেট বিদেশে। জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও কেনিয়ার বিপক্ষে সেইসব সাফল্য।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এখনো ইংল্যান্ডে খেলেননি। আবু জায়েদ রাহীর ওয়ানডে অভিষেক হয়নি। মেহেদী হাসান মিরাজ মোটে ১ ওভার বল করেছিলেন। পার্টটাইমারদের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন ৩ ম্যাচে বল করে ৩ উইকেট নিয়েছেন। এক ম্যাচেই তার ১৩ রানে ৩ উইকেট ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার। নিয়মিতদের মধ্যে সেরা বোলার সাকিব আল হাসানের ৭ ম্যাচে মোটে ৪ উইকেট। গড় ৭৯.৫০। সেরা ৩৫ রানে ২ উইকেট। পেসার রুবেল হোসেন ৬ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছেন। গড় ৫০.৬৬। ‘দ্য ফিজ’ মোস্তাফিজুর রহমানের অবস্থা বড় করুণ। ৪ ম্যাচে তরুণের মোটে ১ উইকেট। সেরা ৫২ রানে ১ উইকেট। গড় ১৮৩.০০। তার স্ট্রাইক রেট ১৭৪.০, মাশরাফীর ৬৬.০, রুবেলের ৪৮.০, সাকিবের ৮৫.৫। কারও ইকোনমি ৭ ছাড়ায়নি এই রক্ষে। কিন্তু ফুলটাইম ৪ বোলারের সম্মিলিত মোটে ২১ উইকেট শিকারের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছে বিশ্বকাপে। এবারের বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতে চাইলে এই জায়গাটিতে টাইগার বোলারদের বড় রকমের উন্নতি করা ছাড়া উপায় নেই কোনো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত