শরীরের বিভিন্ন অংশে সোরিয়াসিস নামক চর্মরোগ হতে পারে। তবে মাথা, জিহ্বা, অ-কোষের থলে, পিঠের ওপরের অংশ থেকে নিচের অংশ, ঘাড়, হাতের কনুই, আঙুল, তালু, পিঠ, নখ ও তার আশপাশে; পায়ের তালু, হাঁটু, হাত-পায়ের জয়েন্টে এটি বেশি দেখা যায়। এসব স্থান থেকে ক্রমাগত চামড়া বা আবরণ উঠতে থাকে। সোরিয়াসিস একেবারে নির্মূলযোগ্য রোগ নয়, তবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
সোরিয়াসিসের ধরন : বিভিন্ন ধরনের সোরিয়াসিস দেখা যায়। এদের লক্ষণও একেক রকম। যেমন, পেক সোরিয়াসিস, ইনভার্স সোরিয়াসিস, ইরিথ্রোডার্মিক সোরিয়াসিস, গাট্টেট সোরিয়াসিস, পাস্টুলার সোরিয়াসিস ও সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস। কোন ধরনের সোরিয়াসিস রয়েছে তা স্কিন বায়োপসি করে সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।
কেন হয়
ওজন বেড়ে গেলে সোরিয়াসিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে বা এই রোগ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
পরিবারের কারও সোরিয়াসিস হলে অন্যদেরও হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারও যদি পিতা-মাতা উভয়ের হয়, তবে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের কারণে সোরিয়াসিস হতে পারে।
কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বিটা বকার, ব্যথার ওষুধ এনএসএআইডি (নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগ), মানসিক রোগীর ওষুধ লিথিয়াম, মুখে খাওয়ার স্টেরয়েড ইত্যাদি ওষুধের ব্যবহার রোগকে জটিল করতে পারে বা বাড়িয়ে দিতে পারে।
অতিরিক্ত টেনশন দেহের ইমিউন সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ সোরিয়াসিস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়।
লাল মাংস, বিশেষ করে গরু ও খাসির মাংস বেশি খেলে হতে পারে।
ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপানের প্রভাব পড়তে পারে সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে।
যদি কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে, তাহলে সোরিয়াসিস রোগীদের হার্টের সমস্যা বেশি হতে পারে। এ ছাড়া ত্বকের সংক্রমণ, ক্ষত, আঘাত বা কাটাছেঁড়া, সানবার্ন, ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি প্রভৃতি কারণে সোরিয়াসিস হতে পারে।
ঝুঁকি
সোরিয়াসিস আক্রান্তদের উচ্চ রক্তচাপ, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদরোগের আশঙ্কা দ্বিগুণ হয়।
কিছু চোখের সমস্যা, যেমন : চোখ ওঠা, ইউভাইটিস ইত্যাদি হতে পারে।
আক্রান্তদের কিডনি রোগ, পরিপাকতন্ত্রের নানা রোগ, ক্রনিক ডিজিজ হতে পারে।
৩০ শতাংশের আর্থ্রাইটিস, গাঁট রোগ বা জয়েন্টের প্রদাহ হতে পারে।
সোরিয়াসিসের কারণে ‘টাইপ টু’ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
সোরিয়াসিস হলে মোটা বা স্থূল হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তবে কেন এই ওজন বাড়ে এর সঠিক কারণ জানা যায়নি।
করণীয় : টেনশনমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা ও অতিরিক্ত ফ্যাট, চর্বিযুক্ত, উত্তেজক খাবার পরিহার করতে হবে। ধূমপান, অ্যালকোহল, ক্ষারীয় সাবান, অস্বাস্থ্যকর পোশাক ও পরিবেশ বর্জন করা উচিত। নিয়মিত গোসল, প্রতিদিন খুব ভোরে একটু নিয়ম করে হাঁটা ও ব্যায়াম করা ভালো। অতিরিক্ত চুলকানো ঠিক নয়। সর্বোপরি প্রয়োজন হলে কাছাকাছি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, সেবা নিন ও সুস্থ থাকুন।
ডা. এস এম বখতিয়ার কামাল
সহকারী অধ্যাপক (চর্ম ও যৌন)
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
চেম্বার : কামাল স্কিন সেন্টার গ্রিন রোড, ঢাকা
০১৭১১৪৪০৫৫৮
