ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে ফেনী জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারাগারে থেকেই নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশনা দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। গতকাল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এমন কথাই বলেছেন তিনি। কারাগারে যারা দেখা করতে গিয়েছিলেন তাদের হত্যার নির্দেশনা দিয়ে আত্মহত্যার তথ্য প্রচার করতেও বলেছিলেন তিনি।’
নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে বিচারকের খাসকামরায় সিরাজের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সিরাজ জবানবন্দিতে বলেন, নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন আগে ৪ এপ্রিল নুরউদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম জেলে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য বলেন। কাজ না হলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে বলেন। নুসরাত হত্যা মামলায় সিরাজসহ ৯ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিরা হলেনÑ নুরউদ্দিন,
শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মণি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ।
গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসারই অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামালা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। হত্যায় ১৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পিবিআই নুসরাত হত্যার ঘটনায় মোট ১৬ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পিবিআই। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নুসরাত হত্যা ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। একে একে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে নয়জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মে মাসেই এই হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হবে। বনজ কুমার বলেন, ‘নুসরাত হত্যা মামলার সব আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি।’
