পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মন্তব্য করে এর স্থিতিশীলতার জন্য বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙা ও শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে নেই। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অগ্রগতি থমকে যাবে। যেসব সমস্যা রয়েছে এগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সবগুলোই একেক করে সমাধান করা হবে। আগামী বাজেটে এতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে।
২৭ জানুয়ারি থেকে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে পাঁচ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে নেমেছে; লেনদেন এক হাজার ১৯৮ কোটি টাকা থেকে কমে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে ঠেকেছে। এ সময়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের শেয়ারের দাম কমেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং খাত অনেকের ধারণায় নাজুক অবস্থায় আছে। এটা আমাদের স্বীকার করতে দোষ নেই। প্রতিটি দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। একটি উন্নয়নশীল দেশে সবগুলো খাতকে সুন্দর ও সমভাবে পরিচালনা করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।’
১৪-১৫ শতাংশ ঋণের সুদ পৃথিবীর কোথাও নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝেশুনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ধরে রাখতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদের ব্যবস্থা করছি। এর ওপর সুদের হার করা হলে যারা ঋণ নেন তারা পরিশোধে ব্যর্থ হন। এতে খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়ছে।’
তিনি বলেন, শিগগিরই সারা বিশ্বের সঙ্গে সমন্বিত করে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক রেট নির্ধারণ করব। ব্যাংক ও ঋণগ্রহিতার সুবিধা বিবেচনা করে সুদের হার নির্ধারণ করা হবে।
ফারমার্স ব্যাংক নতুন নামে (পদ্মা ব্যাংক) পরিচালনা প্রসঙ্গে আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হোক সেটা সরকার চায় না। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের পরিস্থিতি হলে সরকার তার পাশে দাঁড়াবে। যতটা প্রয়োজন সহযোগিতা করবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও এই সুযোগ দেওয়া হয়। আর ফারমার্স ব্যাংক ব্যর্থ হয়েছে-এর অর্থ এই নয় যে পদ্মা ব্যাংকও ফেল করবে। আমরা আশা করি পদ্মা ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে।’
