মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৩৯.৯ ডিগ্রি

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘ফণি’

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:১৩ এএম

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র তোড়জোড়ের মধ্যেই গতকাল রবিবার মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ল দেশ। এদিন ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে তাপমাত্রা। তীব্র এই গরমের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় ফণির আগমনের বার্তাও দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এর গতিপথ ছিল ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ, চেন্নাই ও শ্রীলঙ্কার ত্রিঙ্কোমালি উপকূলের দিকে। আগামী ৩ মে নাগাদ এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে অন্ধ্র প্রদেশ হয়ে গতিপথ পাল্টে বাংলাদেশ উপকূলও অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক গতকাল রাত ৯টার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত এটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের দিকে এগোচ্ছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এবং কোন উপকূল অতিক্রম করবে সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ ঘূর্ণিঝড়গুলো অনেক সময় গতিপথ পরিবর্তন করে। তবে এখনকার পথে এগোলে এটি ৩ মে নাগাদ অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ফণি তীব্র মাত্রায় বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রমের আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোন (হারিকেন) আকারে বাংলাদেশ উপকূলও অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো তা নিশ্চিত নয়। এজন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।’

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাতাসের গতিবেগ ১১৮-২১৯ কিলোমিটারের মধ্যে হলে তাকে হারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।

ভারতের আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ফণি শ্রীলঙ্কার ত্রিঙ্কোমালি থেকে ৬৩০ কিলোমিটার পূর্বে, ভারতের তামিলনাড়–র চেন্নাই থেকে ৯১০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে ও অন্ধ্র প্রদেশের মাচিলিপত্তম থেকে ১০৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় ফণি গতকাল দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৬০ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৮৫ কিলোমিটার, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬২৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটর, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।’

এদিকে চলমান দাবদাহ গতকাল সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে। তাপপ্রবাহ মৃদু থেকে বেড়ে কিছু এলাকায় মাঝারি মাত্রায় পৌঁছেছে। এদিন মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পুড়েছে রাজশাহী। আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি থেকে আড়াই ডিগ্রিরও বেশি বেড়ে এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন চুয়াডাঙ্গাতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি, ঈশ্বরদীতে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং যশোরে ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক।

আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আশঙ্কা রয়েছে শিলাবৃষ্টিরও। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও রাঙ্গামাটি অঞ্চলসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত