বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন যাচ্ছে পিপিপিতে

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:০৫ এএম

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও মানসম্পন্ন সঞ্চালন লাইনের অভাবে এখনো অন্ধকার দূর করা সম্ভব হয়নি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আবার রাজধানী ও আশপাশের এলাকার শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হলেও বিতরণ ব্যবস্থা ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতি থাকায় মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় বেসরকারি খাতকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন ও পরিচালনার সুযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ একটি নীতি কাঠামোর খসড়া তৈরি করেছে। খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ৯ মে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। 

‘পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক অন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ফর পাওয়ার ট্রান্সমিশন সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের খসড়া নীতি কাঠামো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট কিছু সঞ্চালন লাইন পিপিপির আওতায় দেওয়া হবে। সেখান থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার পর নীতি ও আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে পিপিপির আওতায় আরও বেশি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তবে কখন কোনো সঞ্চালন লাইন বেসরকারি খাতে দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। ২৫ বছর মেয়াদে নির্মাণ, মালিকানা, পরিচালন ও স্থানান্তর (বুট) পদ্ধতিতে বেসরকারি অংশীদার তা পরিচালনা করবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশীদাররা ট্রান্সমিশন ট্যারিফ পাবেন। তবে ট্যারিফ হার কত হবে, তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ট্যারিফ উল্লেখকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ দেওয়া হবে। ট্যারিফ বা সার্ভিস চার্জ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা খরচ, ঋণের আসল ও সুদ, বিনিয়োগ করা মূলধনের মুনাফা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, রয়্যালটিস, কারিগরি সহায়তা ও মূলধন প্রত্যাবাসনে করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। বিদেশি ঋণের সুদে কর অব্যাহতি দেওয়া, বিনিয়োগকারী কোম্পানির মুনাফা বা শেয়ার হস্তান্তরে কর অব্যাহতি সুবিধা থাকবে। অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের আয়কে তিন বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেওয়া। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার স্থানীয় কোম্পানির কাছে বিক্রি করা, মুনাফার অর্থ পুনর্বিনিয়োগ করলে তা নতুন বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। 

এতে আরও বলা হয়েছে, সঞ্চালন লাইন স্থাপন করার আগে তার বিস্তারিত নকশা পিজিসিবি থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। সিস্টেমের নিরাপত্তা, ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ ও জেনারেশন ডিসপাচের কাছে বেসরকারি অংশীদারকে পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। তবে জমি অধিগ্রহণের কাজ বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী করতে হবে। পিজিসিবি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, পরিচালন ও সুরক্ষার বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে দেখভাল করবে। কোনো বেসরকারি অংশীদার সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারলে পিজিসিবি ওই অংশীদারকে বাতিল করতে পারবে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের পর তা থেকে অর্জিত আয় ১৫ বছর ধরে করপোরেট করমুক্ত সুবিধা পাবে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে ১০ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। লভ্যাংশসহ মূলধনের অর্থ স্বাধীনভাবে প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। যৌথভাবে বা এককভাবে বিদেশি কোম্পানিগুলোও সঞ্চালন লাইন স্থাপনে অংশ নিতে পারবে।  

পিপিপির আওতায় সঞ্চালন লাইন প্রতিষ্ঠায় পুরনো কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না উল্লেখ করে খসড়া কাঠামোতে বলা হয়েছে, সব ধরনের প্ল্যান্ট, যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ হতে হবে নতুন ও অব্যবহৃত। যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকা- থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার। তবে সঞ্চালন লাইন ও তার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বীমা করবে বেসরকারি অংশীদার। সঞ্চালন লাইনের কোনো ত্রুটি থাকলে জরিমানা গুনতে হবে বেসরকারি অংশীদারকে। 

গ্রাহকের নিরাপত্তা, বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানি, মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও মনিটরিং করতে পিজিসিবি ‘ওয়ান উইন্ডো অপারেশন’ স্থাপন করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত