শ্রীলঙ্কায় হামলার পর দেশে জঙ্গিবাদের যে ঝুঁকি ছিল তা কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশে দুই মাস আগে জঙ্গিবাদের যে ঝুঁকি ছিল, শ্রীলঙ্কায় হামলার পর তা কিছুটা বেড়েছে। তবে এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) আয়োজিত ‘বিশ্ব সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সিটিটিসি-প্রধান।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের ঘটনার পরে উগ্রবাদীরা প্রতিশোধ নেবে এরকম চিন্তা আমরা বেশ কিছু লোকজনের মধ্যে দেখেছি। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। শ্রীলঙ্কার ঘটনার পরে এরা আরও বেশি উত্তেজিত হয়েছে। “এরা পারলে আমরা কেন পারব না” এরকম একটা ধারণা তাদের মধ্যে। ফলে এই ঝুঁকিটা আমাদের আগের চাইতে আরও বেড়েছে। ফলে দুই মাস আগে আমাদের ঝুঁকির যে মাত্রা ছিল, তার থেকে এখন ঝুঁকির মাত্রা
একটু বেশি। তবে এটা নিয়ে বিশেষভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিছু হওয়ার মতো অবস্থায় এটা এখনো যায়নি। তাই আমাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যদি সতর্ক থাকে, তাহলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’
নিউজিল্যান্ডের ঘটনার পর চরমপন্থিরা কিছুটা উত্তেজিত হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা খুব কাছের দেশ। একেবারে আঞ্চলিক জোটের একটি দেশ। ফলে এরা আরও বেশি উত্তেজিত হয়েছে। যেহেতু তাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে, তাই তারা হামলার চিন্তা করতে পারে। আমাদের চিন্তায় সেটি আছে, আমরা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, তাহলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের এ আশঙ্কা আমরা নস্যাৎ করে দিতে পারব।’
জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটা দেশের ঘটনা দেশের মানুষকে প্রভাবিত করে। ফলে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু শব্দের ব্যবহার নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। ধর্মীয় কিছু শব্দ আছে, সেসব শব্দের ব্যাখ্যা আছে। এরা কেউ মুজাহিদ নয়, এরা জিহাদ করছে না। এদের সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে শহীদ হিসেবে আখ্যা করলে এই কথাগুলোয় ধর্মপ্রাণ কেউ কেউ হয়তো উদ্বুদ্ধ হতে পারে। তাই এদের এমনভাবে চিত্রায়িত করা যাবে না যে তাদের অনুকরণীয় মনে করা যায়। তাই এইসব দিক সাংবাদিকদের দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বোয়াফ সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়। এতে অন্যদের মধ্যে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংসদ শফিকুর রহমান, লেখক ও কলামনিস্ট মাসুম বিল্লাহ নাফি এবং গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক মারুফ রসুল অংশ নেন।
