ময়মনসিংহ সিটির প্রথম নির্বাচনে উপজেলার মতো ভোটার উপস্থিতি কম হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের অধিবাসীরা নির্বাচনমুখী ও গণতন্ত্রমুখী। তাদের মধ্যে যে সহনশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ তারা করতে পারে না।’ ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়ার দায়িত্ব প্রার্থীদের বলেও জানান তিনি।
গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিটি নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়। তবে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নেওয়ার দায়িত্ব প্রার্থীদের।’
ময়মনসিংহ সিটিতে ভোট হবে আগামী ৫ মে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. ইকরামুল হক টিটু বিনা ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এখন ৩৩টি সাধারণ ও ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ভোট হবে। ১৩০টি কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।
জাল ভোটের সংস্কৃতিকে বিদায় জানাতেই ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে এ নির্বাচন পরিচালনা করব। ইভিএম এমন একটি পদ্ধতি যেখানে জাল ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতি নতুন, তাই মানুষ এ বিষয়ে জানবে নাÑ এটাই স্বাভাবিক। মানুষের মাঝে ইভিএম নিয়ে আস্থার সৃষ্টি করতে পারলেই তা সবাই গ্রহণ করবে।’
এ নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হবে না এ আশা প্রকাশ করে নুরুল হুদা বলেন, ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের অধিবাসীরা সহনশীলÑ তারা এ নির্বাচনে কোনো অনিয়ম করবে না বলে আমাকে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আমি (কর্মকর্তাদের) বক্তব্য শুনে আশ্বস্ত হয়েছি যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। ভোটার তার ভোট দিয়ে যেতে পারবে এবং তাতে কোনো প্রতিকূলতার সৃষ্টি হবে না।’
ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার এ এইচ এম লোকমানের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক সাইদুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
