অনলাইন গেম পাবজি নিয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। এ গেমের নেশায় পড়ে মানুষ নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে পর্যন্ত, কেউ ঘর ছেড়েছে কেউ সংসার ছেড়েছেন। তাই বলে বিয়ে করতে বসেও এ গেম খেলতে হবে! এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এনডিটিভি জানায়, ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, তা ভিডিও থেকে বোঝা যাচ্ছে না। তবে এর মধ্যে ফেসবুকে এটি দেখে ফেলেছে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ। ভিডিওটি প্রথম আপলোড করা হয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটিক-এ। এরপর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিয়ের আসরে লাল পাঞ্জাবি পরে বসে আছেন বর। পাশে বসে আছেন লাল শাড়িতে নতুন কনে। জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বর ব্যস্ত পাবজি খেলাতে। বর গেমে এতই ব্যস্ত যে, বিয়ের আসরের দিকে তার খেয়ালই নেই। এমনকি বিয়েতে পাওয়া উপহারের দিকেও ফিরে তাকাচ্ছেন না তিনি। তার কর্মকাণ্ডে কনেও বিরক্ত।
এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মানুষের মধ্যে নানা হাস্যরস তৈরি হয়। অনেকে কটূ মন্তব্য করতেও ছাড়ছেন না। যেমন, একজন মন্তব্য করেন, “ইনিই আসল খেলোয়াড়, একে বিরক্ত কোরো না।”
পাবজি নেশার একাধিক ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। লাগাতার গেমটি খেলতে খেলতে কখনো শারীরিক, কখনো মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন যুবকরা।
গত মার্চে পাবজি খেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ২০ বছরের এক যুবক। ভারতের তেলেঙ্গানার জগিতিয়ালের বাসিন্দা ওই যুবক টানা ৪৫ দিন পাবজি খেলছিলেন বলে জানা গেছে।
একই মাসে পাবজি খেলতে খেলতে ভুলে পানির বদলে অ্যাসিড খেয়ে ফেলেছিলেন এক যুবক। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসার সময়েও মোবাইল স্ক্রিন থেকে চোখ সরাচ্ছিলেন না তিনি, এমনটা জানান চিকিৎসক। ভারতের মধ্যপ্রদেশে এ ঘটনা ঘটে।
এ গেমের নেশা এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকেই নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার এক তরুণ। এমনকী বাড়িতে ফেলে গিয়েছিলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও। মালয়েশিয়ার এক শহরে এ ঘটনা ঘটে
পাবজি গেম শিশুদের ওপর এমন ভয়ংকর প্রভাব ফেলেছে যে, এ নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। শেষপর্যন্ত একের পর একের অভিযোগে অনলাইন গেমটি বন্ধ করে দিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, চীনের টেনসেন্ট কোম্পানি পাবজি নামে এ গেম তৈরি করে। গেমটিতে একশ’ জন খেলোয়াড় পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধে নামে। সেখানে একমাত্র জীবিতই বিজয়ী। এককভাবে ছাড়াও দলীয়ভাবে এ গেম খেলা যায়।
চীনের বাইরেই এ গেমটি ২০ কোটিরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ৩ কোটি মানুষ এ গেমে সক্রিয় থাকে।
