আরেকটি প্রথমের সামনে মৌসুমী-সানজিদারা

আপডেট : ০১ মে ২০১৯, ১১:৩৫ পিএম

শিরোপার স্বপ্ন পূরণে আর মাত্র একধাপ দূরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপের ফাইনালে শুক্রবার লাওসের মুখোমুখি হবে মিসরাত জাহান মৌসুমী-সানজিদা আক্তাররা। যে ম্যাচ জিতলেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত কোনো নারী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলবে বাংলাদেশ।

নারী ফুটবলের ইতিহাসে মৌসুমী-সানজিদাদের হাত ধরেই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে আসে সেই সাফল্য।

এরপর দেশের নারী ফুটবলে আরো অনেক প্রথমের গল্প লিখেছে কৃষ্ণা রানী সরকার, সিরাত জাহান স্বপ্না, মার্জিয়া, মৌসুমীরা। যার মধ্যে রয়েছে- এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে এশিয়ার সেরা আটে খেলা। সিনিয়র সাফে প্রথমবারের মতো রানার্সআপ হওয়া। ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে শিরোপা জয় করা। সেই আসরগুলোতে খেলা অধিকাংশ খেলোয়াড়রাই অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপার সামনে দাঁড়িয়ে এবার।

ছয় জাতির বঙ্গমাতা গোল্ড কাপে বাংলাদেশ শুরু থেকেই খেলছে দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে পুরোটা সময় প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রেখে খেলেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-০ ও কিরগিজস্তানকে ২-১ গোলে হারায় গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। অবশ্য গোলের অনেক সুযোগ হাতছাড়া করায় দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান বড় হয়নি।

এরপর সেমিফাইনালে মঙ্গোলিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। যেখানে প্রতিপক্ষ লাওস বেশ শক্তিশালী। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ ও সেমিফাইনাল মিলে তারা গোল করেছে মোট ১৮টি।

সেই দলটির বিপক্ষে শিরোপা জিততে বড় চ্যালেঞ্জই জয় করতে হবে মৌসুমীদের। আর সেটি পারলেই মৌসুমী-কৃষ্ণা-সানজিদারা নিজেদের নিয়ে যেতে পারবেন আরো উচ্চতায়।

২০১৫ সালে নেপালে শিরোপা জয়ী দলটির বেশির ভাগ সদস্যই রয়েছেন এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ দলটিতে। পরে যোগ হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন গোলরক্ষক রুপনা চাকমা, ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন, ফরোয়ার্ড সাজেদা আক্তারের মতো ক’জন।

সানজিদা-কৃষ্ণাদের সেই শিরোপার পরের বছরই দ্বিতীয়বারের মতো এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। সানজিদা, কৃষ্ণা, মৌসুমীর মতো বেশ ক’জন অবশ্য সেই আসরে খেলেননি। তবে ২০১৬ সালে আরেকটি ইতিহাস লিখেন তারা। ঘরের মাঠে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ আঞ্চলিক ফুটবলের বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পা রাখে এশিয়ার সেরা আটে। মৌসুমীদের দেখানো পথে এ বছরও অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে এশিয়ার সেরা আটে খেলবে বাংলাদেশ।

সিনিয়র জাতীয় দলেও মৌসুমী-কৃষ্ণাদের অর্জন কম নয়। ২০১৬ শিলিগুড়ি সাফে প্রথমবারের মতো রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। যে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন মৌসুমী, কৃষ্ণা, স্বপ্না, সানজিদা, মার্জিয়া, নার্গিস, মাসুরা পারভীনরা।

শিরোপার সংখ্যা বিচারে মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহাররা আবার মৌসুমী-সানজিদাদের চেয়েও এগিয়ে বলতে হবে। কেননা বয়সের কারণে একাধিক আসরে মৌসুমীরা খেলতে না পারলেও মারিয়া-তহুরারা ঠিকই দেশকে উপহার দিয়েছেন শিরোপা। আর দেশের প্রথম শিরোপা গুলোতেও সিনিয়রদের সঙ্গে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

বঙ্গমাতা গোল্ড কাপের শিরোপাটা বাংলাদেশ ঘরে রেখে দেবে এই প্রত্যাশাতেই শুক্রবার মাঠে যাবে দর্শকেরা। মৌসুমীরা পারবেন তো নিজেদের আরো উচ্চতায় নিয়ে যেতে?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত