যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য সরবরাহে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ড্রোন। মূলত খাদ্য ও ওষুধপত্র হোম ডেলিভারি দিতে ড্রোন ব্যবহার করছে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এ প্রথম ড্রোনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলো কিডনি।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ১৯ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির মেডিকেল সেন্টারে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হয় ড্রোন।
মেডিকেল সেন্টারটির কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের নিরাপদ এবং দ্রুত পরিবহনে দারুণ উন্নতি বলা যায় একে।
এ প্রজেক্টে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ডিজাইনের উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন। তিন মাইল দূর থেকে কিডনিটি আনা হয়। পুরো যাত্রাপথ মনিটরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ৪৪ বছর বয়সী এক নারীর দেহে এ কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। আট বছর ধরে তিনি কিডনি ডায়ালাইসিস করছিলেন।
মার্কিন অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতির পর ড্রোনটি রাত একটায় আকাশে উড়ে। ৪০০ ফুট উঁচুতে ১০ মিনিট ধরে এটি উড়ে কিডনি পরিবহন করে নিয়ে আসে।
কিডনি প্রতিস্থাপনে চিকিৎসক দলের একজন মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির মেডিকেল সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ডা. জোসেফ স্কেলা। অঙ্গ প্রতিস্থাপনে এমন ঘটনায় তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত।
সফল অস্ত্রোপচার শেষে তিনি বলেন, “অঙ্গ নষ্ট হওয়া বা কার্যকারিতা হারানোর আগে অল্প সময়ের মধ্যে এভাবে প্রতিস্থাপনের করা সম্ভব হবে।”
এ চিকিৎসক আরও বলেন, “এরপর আরও বেশি দূরত্ব থেকে ড্রোনে করে অঙ্গ নিয়ে আসা হবে। সেটি হয় ৩০ বা ১০০ মাইল। এখন দূরত্ব কোনো ব্যাপারই না।”
প্রসঙ্গত গত মাসের শেষের দিকে পণ্য ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ড্রোন ব্যবহারের অনুমোদন দেয় মার্কিন অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এতে প্রথম অনুমোদন পায় গুগলের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান উইং।
গাড়ি করে পণ্য সরবরাহের চেয়ে ড্রোন ব্যবহার করলে পথচারীদের জন্য ঝুঁকি কমায়, এমনটা প্রমাণিত হওয়ার পর এ অনুমোদন দেয় অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
অনুমোদনের ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারকে ‘এয়ারলাইন’ হিসাবে সাব্যস্ত করেছে মার্কিন অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
চার্টার্ড ফ্লাইট, কার্গো পরিবহন এবং স্বল্প দূরত্বের ব্যক্তিগত বিমানের অনুমোদনে যে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়, এ ক্ষেত্রেও সেটি করা হয়েছে।
