বিএনপির এমপিদের শপথে হতবাক ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ০৩:১৮ এএম

বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্যের পাঁচজন হঠাৎ করে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্তে হতবাক জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গড়ে ওঠা বিএনপিপ্রধান সরকারবিরোধী এই প্রধান রাজনৈতিক জোটটির নেতারা। তারা বলেন, ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ তারা; জানতে চান শপথের কারণ। এ জন্য শিগগিরই ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক ডাকা হবে। ফ্রন্টের নেতারা অবশ্য একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করে বলেছেন, গণফোরামের দুজনের পর বিএনপির পাঁচজন শপথ নেওয়ায় এখন সুস্থধারার  রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হবে। গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সরকার আর বাধা দেবে না।

৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র ছয়টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি। আর অন্যতম শরিক গণফোরাম পায় দুটি আসন; যার একটিতে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়েন গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। ভোটের দিনই ঐক্যফ্রন্ট জোটগতভাবে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে জোট ও দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রথমে শপথ নেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। পরবর্তী সময়ে শপথ নেন গণফোরামের আরেক নেতা এম মোকাব্বির খান। গণফোরামের এই দুই নেতার শপথ গ্রহণের কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপিসহ জোটের অন্য নেতারা। এরই মধ্যে গত ২৫ এপ্রিল শপথ নেন বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান জাহিদ। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে শপথ গ্রহণের শেষ দিন বিএনপি মহাসচিব ছাড়া বাকি চারজন সাংসদ হিসেবে শপথ নেন। এ জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ ছিল জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি রাজনীতিতে বিএনপির চমক ও ইউটার্ন।

বিএনপির হঠাৎ এই ইউটার্নের ফলে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান এখন কী হবে, সে বিষয়ে জানতে ফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ায় আমরা অবাক হয়েছি। স্তব্ধ হয়েছি। কারণ শপথ না নেওয়ার বিষয়ে তারাই বেশি সোচ্চার ছিলেন। তাই আমরা এখন তাদের শপথ নেওয়ার কারণ জানতে চাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বিএনপি।’  শিগগিরই ফ্রন্টের বৈঠক ডেকে বিএনপির কাছ থেকে কারণ জানার পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান মান্না।

এ বিষয়ে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গণফোরামের নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য আগেভাগে শপথ নেওয়ায় তারা বিব্রত ছিলেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরা যেভাবেই হোক শপথ নেওয়ায় সেটা কেটে গেছে। এখন বিএনপি আগে তাদের দল নিয়ে সামলে উঠুক। তারপর তাদের সঙ্গে বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, গণফোরামের দুজনের পর বিএনপির পাঁচজন শপথ নেওয়ায় এখন সুস্থধারার রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হবে। কারণ সরকারও চাইছিল সব দল সংসদে যোগ দিক। আমরা আশা করছি, সরকার এখন আর গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না।

বিএনপির হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে শুধু ফ্রন্টের নেতারাই নন, হতবাক দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরাও। শপথের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কথা বলায় তারা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে উদগ্রীব হয়ে আছেন হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনের কারণ জানতে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের মহাসচিব যেহেতু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কথা বলেছেন, সেহেতু তাদের কিছু বলার নেই। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনের কারণ মহাসচিব স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকে ব্যাখ্যা করলে ভালো হতো, নেতাকর্মীরা পরিষ্কার ধারণা পেতেন। কারণ, তৃণমূল নেতাকর্মীরাও ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন।

গত ২৯ এপ্রিল বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপির চার সংসদ সদস্য। এ সময় তারা বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদেরকে শপথ নিতে বলেছেন। তখনো বিএনপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যম কিংবা নেতাকর্মীদের কিছু জানানো হয়নি। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে একাই সংবাদ সম্মেলন করেন। তারেক রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তে নির্বাচিত চার সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। এর আগে দলের কেউ বিশ^াস করতে পারছিলেন না তারেক রহমান আদৌ তাদের শপথ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন কিনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত