গোপালগঞ্জের মানিকদাহে জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের (জাগৃক) আবাসন প্রকল্পের অনিয়মের তথ্য পেয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। প্রকল্পটির মাস্টারপ্ল্যানে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ না করেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটি সরেজমিন গিয়ে অনিয়ম পেলেও এক বছরেও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে মাস্টারপ্ল্যানের ব্যত্যয় হওয়ার ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র লতিফপুর ইউনিয়নের মানিকদাহে ২০১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২১০৪ ডিসেম্বরে ওই আবাসন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। প্রকল্প পরিচালক ছিলেন খুলনা ডিভিশনের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) সাঈদ রেজা। তার সঙ্গে কাজ করেছেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (বর্তমানে চট্টগ্রাম ডিভিশনে কর্মরত) অলিউল ইসলাম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজ।
প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে থাকা দুটি সড়ক নির্মাণ না করেই কাজ শেষ করা হয়। এর সঙ্গে স্থাপনা নির্মাণে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার ও ড্রেন নির্মাণের পরপর ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের পক্ষে গোলাম রসুল গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবের কাছে অভিযোগ করেন। তখন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যুগ্ম সচিব (প্রশাসন-২) হাসানুজ্জামান কল্লোলকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। সরেজমিন তদন্ত শেষে গত বছরের ১৫ মে কমিটি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সাধারণত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী জাগৃকের প্লট বরাদ্দ হয়ে থাকে। কোনো প্লট প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী যেসব রাস্তা থাকা দরকার বাস্তবে তার থেকে কম রাস্তা তৈরি হলে সেটি পরিকল্পিত প্রকল্পের অবয়ব হারায়। তাছাড়া বরাদ্দগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকালে দেখা যায় দুটি রাস্তা তৈরি করা হয়নি। অথচ এ রাস্তা দুটি মাস্টারপ্ল্যানে রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ না করার বিষয়েও তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ রেজা কর্র্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেয়নি, যা নীতিমালার ব্যত্যয় হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক সাঈদ রেজা বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দুটি রাস্তা করা হয়নি তা সত্য। তবে এখান থেকে কোনো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়নি। রাস্তা নির্মাণের যে টাকা ধরা হয়েছিল তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
