ঈশ্বরদীতে মোসাদ্দিকুর রহমান মনি (১৫) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রকে রাতভর থানায় আটক রেখে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রকে ঢাকার একটি বে-সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত মনি শহরের আলবাগ এলাকার মন্ডল গলির কাজী মোস্তাফিজুর রহমান ফরহাদের ছেলে এবং ঈশ্বরদী ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ১০ শ্রেণির ছাত্র।
শুক্রবার দুপুরে ওই মাদ্রাসাছাত্রের বাবা কাজী মোস্তাফিজুর রহমান ফরহাদ ঈশ্বরদীর সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, রোববার রাত ১১টার দিকে পোস্ট অফিস মোড়ের একটি দোকানে কয়েল ও চকলেট কিনতে যায় তার ছেলে মনি। সে সময় ঈশ্বরদী থানার এস আই মোহাম্মদ আলী ও এ এস আই রায়হান হোসেন তাকে ‘এত রাতে বাইরে কেন, তুই কি করিস’ বলেই চড়-থাপ্পড় মেরে থানায় নিয়ে আটক করে।
তিনি আরো জানান, পরবর্তীতে পরিবারের কাছে খবর গেলে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করায় রাতভর মনিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করায় সেখানেই প্রস্রাব করে ফেলে মনি।
কাজী মোস্তাফিজুর আরও জানান, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পরদিন সকালে আহত অবস্থায় মনিকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি জানান, মনির বুকের হাড়ে দাগ ধরা পড়েছে এবং তার ডান পায়ের হাড় ফেটে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান তার সন্তানের ওপর পুলিশি নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবি জানান।
যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত এ এস আই রায়হান হোসেন ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেন।
তবে এস আই মোহাম্মদ আলী বলেন, গভীর রাতে ওই ছেলেকে রাস্তায় পেয়ে থানায় রাখা হয়েছিল। টাকা কিংবা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
