আম-লিচু নিয়ে ভয়

আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ০২:২৮ এএম

কালবৈশাখীতে টিকে যাওয়া আম ঘূর্ণিঝড় ফণিতে হারানোর আশঙ্কা করছেন বাগানমালিকরা। বেশিরভাগ আম ওজনে ভারী হওয়ায় তীব্র ঝড়ে বোঁটা ছিঁড়ে পড়ে যাওয়ার ভয় করছেন তারা। ঝড়ের আঘাতে গাছ থেকে ছিঁড়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন দিনাজপুরের লিচু বাগানমালিকরাও। বাগানমালিকরা বলছেন, চলতি মাসেই পাকতে শুরু করবে আম ও লিচু। ফলে সুস্বাদু এ ফল দুটির ওজন ওআকার বেড়েছে। তীব্র গতির ঝড়ে এসব ফল বোঁটা ছিঁড়ে পড়ে যাবে। ফল পাকার আগে আগে এ ধরনের ক্ষতি হলে তা পোষানোর কোনো পথ দেখছেন না তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিরা বলেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার ৩১ হাজার ৮২০ হেক্টর আমবাগানে ২৬ লাখেরও বেশি গাছে আমের উৎপাদন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে মুকুল আসার সময় টানা দু-তিন দিনের বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া কিছুটা ক্ষতি করেছিল। পরের সময়গুলোতে ঝলমলে আবহাওয়ার কারণে ভালো ফলনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। এবার পৌনে তিন লাখ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনার মধ্যে ফণি নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

জেলাসদর পৌর এলাকার মাঝপাড়া মহল্লার আমচাষি সাদরুল খান বলেন, এমনিতেই কালবৈশাখীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফণির কারণে যে ঘূর্ণিঝড় হবে, তার গতি সাধারণ কালবৈশাখীর চেয়ে আরও বেশি হবে। এ পরিস্থিতিতে আমের পরিস্থিতি যে কী হবে, তা ভাবতেও পাচ্ছি না। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের গাছগুলো বড় বড় হওয়ায় ঝড় আঘাত করলে ক্ষতি অনেক বেশি হবে।

একই এলাকার আমচাষি হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গাছে বড় বড় আম ঝুলছে। এ সময় ৮০-৯০ কিলোমিটার গতিতে ফণি এসে আঘাত হানলে বেশিরভাগ আমই পড়ে যাবে। ফণি রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাবে বলে শুনতে পাচ্ছি। এমন খবর আমাদের বড় চিন্তায় ফেলেছে।

দিনাজপুর থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণি দিনাজপুরে আঘাত হানলে লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন জেলার বাগানমালিকরা। ঘূর্ণিঝড় ফণি আঘাত হানলে লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে ধারণা করছেন কৃষি কর্মকর্তারাও।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকার লিচু বাগানমালিক মো. মাহফুজ ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় দিনাজপুরের ওপর দিয়ে গেলে লিচু ঝরে যাবে। এখন লিচুর দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এমন সময় ঘূর্ণিঝড় হলে আমাদের সর্বনাশ হবে।

বিরল উপজেলার লিচু ব্যবসায়ী মো. আতাউর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় হলে লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হবে। কারণ লিচু বড় হতে শুরু করেছে। এমন সময় ঝড় হলে তা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি।

খানসামা উপজেলার লিচু বাগানমালিক তাজ ফারাজুল ইসলাম বলেন, গতবারের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। এ সময়ে ফণি আঘাত হানলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল বলেন, ফণিতে লিচু ও আমের বেশি ক্ষতি হতে পারে। কারণ বাগানে ঝড় হামলে পড়লে তা সামাল দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সরেজমিন বিভিন্ন লিচু বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানমালিকরা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রস্তুতি নিয়ে বাগান পাহারা দিচ্ছেন। জেলার ৫ হাজার ২৮১ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩টি লিচুগাছ রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত