ব্যাটিংয়ের মতোই চমকে ভরা শহীদ আফ্রিদির আত্মজীবনী ‘গেমচেঞ্জার’। নিজের আসল বয়স জানিয়ে চমকে দিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বকে। ১৬ বছর বয়সে অভিষেকে ৩৭ বলে ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডের মালিক বলেছেন, আসলে তার বয়স আরও বেশি ছিল তখন। গৌতম গাম্ভীরের কোনো ব্যক্তিত্ব নেই জানিয়ে উসকে দিয়েছেন ভারতীয়দের। ২০১০ সালে কেলেঙ্কারির ইংল্যান্ড সফরে হওয়া ‘ফিক্সিং’ সম্পর্কে আগেই খবর ছিলতার কাছে জানিয়ে আরেক দফা চমক দিয়েছেন বুম বুম।

আত্মজীবনীতে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘আমি তখন শ্রীলঙ্কা সফরে। সালমান বাটের এজেন্ট ও ম্যানেজার মাজাহার মাজিদের ক্ষুদে বার্তাটির বিষয়টি তখনই জানতে পারি। কাকতালীয় ব্যাপার। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি শিশু, এক সৈকত ও একজন মোবাইল মেরামতকারী জড়িত।’ আফ্রিদির কথা, ‘মাজিদ এবং তার পরিবার শ্রীলঙ্কা সফরের আগে এক টুর্নামেন্ট চলাকালীন পাকিস্তান দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। এক সৈকতে বেড়াতে গিয়ে মাজিদের ছোট্ট ছেলে বাবার ফোন পানিতে ফেলে দেয়। ফোনটি কাজ করছিল না। মাজিদ ইংল্যান্ডে গিয়ে এক দোকানিকে ফোনটি সারাই করতে দিয়েছিল। কাকতালীয় ব্যাপার, সেই দোকানি আবার আমার বন্ধুর বন্ধু।’
সেই বন্ধুর বন্ধুর কাছ থেকে মোবাইল ক্ষুদে বার্তা সম্পর্কে জানতে পারার সেই গল্প বলেছেন আফ্রিদি, ‘মেরামতের সময় দোকানিকে খুদে বার্তা পুনরুদ্ধার করতে বলেছিল মাজিদ। এভাবে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কাছে তার পাঠানো বার্তাগুলো দোকানির নজরে আসে। বার্তাগুলো সে তার বন্ধু এবং আরও কয়েকজনের কাছে ফাঁস করে দেয়। ব্যাপারটা আমি জানতে পারি এভাবেই। চারপাশে তখন একটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, পাকিস্তান দলে কিছু একটা ঘটছে। এভাবেই ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ জানতে পারে বিষয়টা। ব্যাপারটা নেহায়েত কাকতালীয়।
এরপর ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের’ স্টিং অপারেশনের ফলে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের ‘ফিক্সিং’ স্ক্যান্ডাল সারা দুনিয়া জানতে পারে। সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির এবং মোহাম্মদ আসিফ গ্রেপ্তার হন। আফ্রিদি জানিয়েছেন, খুদে বার্তা তার নজরে আসার পর পরই শ্রীলঙ্কা সফরের তৎকালীন কোচ ওয়াকার ইউনুসকে জানিয়েছিলেন। যদিও ওয়াকার ব্যাপারটা পাকিস্তান ক্রিকেটের ওপর মহলকে জানায়নি।
পরে জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরে যায় পাকিস্তান আফ্রিদির নেতৃত্বে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ‘এমসিসি স্পিরিট অফ ক্রিকেট’ নামে দুই টেস্টের সিরিজ খেলে পাকিস্তান। আফ্রিদি লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ড সফরের সময় মাজহার সাঈদকে পাকিস্তান দলের আশপাশে ঘুরাঘুরি করতে দেখি। যেসব খেলোয়াড় পরবর্তী সময়ে কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিল তাদের কাছে ঘেঁষতে দেখি। বিষয়টা ম্যানেজার ইয়াওয়ার সাঈদকে জানিয়ে মাজহার মাজিদকে খেলোয়াড়দের থেকে দূরে রাখার কথা বলি।’ আফ্রিদি দাবি করেছেন, অভিযোগ শুনে ইয়াওয়ার সাঈদ বলেছিলেন, ‘এ নিয়ে আমরা কী করতে পারি...কিছু না, তেমন কিছু না।’ ঘটনায় আফ্রিদি হতাশ হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন আত্মজীবনীতে।
সেই সময়কার কথা আফ্রিদি লিখেছেন, ‘কোচ এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুই পাল্টায়নি। লর্ডসে প্রথম টেস্টের সময় ভেবেছি, কী সমস্যা পাকিস্তান ক্রিকেটের? সবাই এটা করছে কেন? ঠিক তখনই নিজের মতো করে বিষয়টার ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিই। ম্যাচ চলাকালীন চতুর্থ দিনে আমি সালমানকে বললাম, এখন তুমি দায়িত্ব নিতে পার।’ লর্ডস টেস্টে পরাজয়ে টেস্ট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন সে ম্যাচের অধিনায়ক আফ্রিদি। শেষ হয় তার ২৭ টেস্টের ক্যারিয়ারের। হতাশ-বিরক্ত আফ্রিদি দেশে ফিরে যান সিরিজ শেষ না করেই। অধিনায়ক হন সালমান বাট। তিনি অধিনায়ক হওয়ার পর ইংল্যান্ডের সঙ্গে চার ম্যাচের সিরিজের শেষটিতে, লর্ডসে ঘটে ‘ইচ্ছাকৃত বাজে পারফরমেন্সের’ ঘটনা। ১০ ও ৫ বছর করে টেস্টে নিষিদ্ধ হন বাট ও দুই পেসার আসিফ ও আমির। আফ্রিদি অবশ্য পরে স্বীকার করেছেন, ওভাবে হুট করে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। আরও অনেক কিছু হয়তো করার ছিল তার।
