বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, সরকার কারাগারকে টর্চারিং মেশিনে পরিণত করেছে। ফলে তা মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। কারাগার কারাবন্দিদের জন্য নিরাপদ জায়গা হলেও সেখানে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জীবন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। খালেদ জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত প্রতীকী গণঅনশনে এসব কথা বলেন রিজভী।
বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় রিজভী অভিযোগ করেন, ‘রাজশাহী কারাগারে থাকাবস্থায় বিনা চিকিৎসায় নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যু হয়েছিল। এককথায় বলা যায়, তাকে মেরে ফেলা হয়েছিল। সম্প্রতি ঢাকার বাইরে পঞ্চগড় জেলায় পলাশ কুমার রায় নামে এক অ্যাডভোকেটকে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। ’
কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার তাকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রেখেছে। এজন্য বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে। কারণ কারাগারের মধ্যে থাকা বন্দির নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব পালন করেনি।’
রিজভী বলেন, প্রবল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ফণির আঘাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দুর্গতদের জন্য সরকার খাবারের ব্যবস্থা করেনি। এমনকি তারা যে রান্না করে খাবে তার জন্য জায়গাও নেই। তারপরও সরকারের মন্ত্রীরা বড় বড় কথা বলছেন। তারা বিএনপির কথায় উষ্মা প্রকাশ করছেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনশনে অন্যানের মধ্যে অংশ নেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, তাঁতী দলের সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক বাহাউদ্দিন বাহার, মৎস্যজীবী দলের নাদিম চৌধুরী প্রমুখ।
