কঙ্গোতে সড়ক দুর্ঘটনা

অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরার মৃত্যু

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ০২:৪০ এএম

কঙ্গোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রৌশন আরা বেগম (৫৭)। তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী পুলিশ সুপার ছিলেন। গত ৫ মে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কার্যক্রম পরিদর্শন ও মেডেল প্যারেডে অংশ নিতে কঙ্গো যান তিনি। দেশটির রাজধানী কিনসাসায় স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় তাকে বহনকারী গাড়িকে একটি লরি ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গাড়ির আরোহীর মধ্যে ব্যানএফপিইউ-১-এর (বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিট) কমান্ডার (পুলিশ সুপার) ফারজানা ইসলাম ও চালককে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রৌশন আরার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ অনেকে। তার মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রৌশন আরা বেগম স্বামী, একমাত্র কন্যা ও ভাই-বোনসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাষ্ট্রপতির শোক : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কঙ্গোতে সড়ক দুর্ঘটনায় রৌশন আরার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমবার এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর শোক : ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল এক শোকবার্তায় পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রৌশন আরার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

আইজিপির শোক : রৌশন আরা বেগমের মৃত্যুতে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘রৌশন আরা বেগম একজন পেশাদার, কর্তব্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তার বন্ধুসুলভ মনোভাবের জন্য তিনি কর্মস্থলে সবার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ছিলেন। পুলিশ সুপার হিসেবে জেলায় দায়িত্ব পালনকালেও তিনি তার যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলাদেশ পুলিশের নারী কর্মকর্তাদের কাছে তিনি ছিলেন একান্ত নির্ভরতা ও আস্থার প্রতীক।’ আইজিপি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

এ সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে আইজিপি ব্যক্তিগতভাবে কঙ্গো মিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

ক্যারিয়ার : পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রৌশন আরা বেগম বিসিএস সপ্তম ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে ১৯৯৮-২০০০ সাল পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এনবিআরের উপপরিচালক, আরএমপির উপকমিশনার, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ঢাকায় বিশেষ পুলিশ সুপার, কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। রৌশন আরা ২০০৭ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজির দায়িত্বে ছিলেন।

এ ছাড়া তিনি ডিটিএস সিআইডির কমান্ড্যান্ট (অ্যাডিশনাল ডিআইজি), স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স, সিআইডি ঢাকায় ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) ও ২০১৩-১৪ সালে ডিআইজি হিসেবে ফরেনসিক, সিআইডি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে বিএসএস (অনার্স) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করা স্বনামধন্য এই পুলিশ কর্মকর্তা যুক্তরাজ্যের পুলিশ স্টাফ কলেজ ব্রামশিলে স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং কোর্স ও লিডারশিপ কোর্স ফর ফিমেল লিডারস ইন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমি কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। তিনি দেশে-বিদেশে বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে কসোভো ও সুদানে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পুলিশ বাহিনীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকে ভূষিত হয়েছেন এবং দুবার আইজি ব্যাজ পান। বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি হিসেবে তিনি ২০১১-১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের বাংলাদেশ পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট ও নেটওয়ার্কের কার্যকরী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত