পাসের হার বেড়েছে এসএসসিতে

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ০২:৪১ এএম

মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০১৯-এ পাসের হার ৮২.২০ শতাংশ। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেয় ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ জন পরীক্ষার্থী। পাস করেছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন। মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। মোট ছাত্র পাস করেছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪১ জন এবং ছাত্রী পাস করেছে ৮ লাখ ৮২ হাজার ২২৪ জন।

এবার প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষামন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। এরপর লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করে পাস করা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও আট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। এবার যশোর বোর্ডে পাস করেছে ৯০.৮৮, ঢাকা বোর্ডে ৭৯.৬২, রাজশাহী বোর্ডে ৯১.৬৪, দিনাজপুর বোর্ডে ৮৪.১০, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭৮.১১, সিলেট বোর্ডে ৭০.৮৩, বরিশাল বোর্ডে ৭৭.৪১, কুমিল্লা বোর্ডে ৮৭.১৬ শতাংশ পাস করেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৭২.২৪ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৮৩.০৩ শতাংশ পাস করেছে। অন্যদিকে বিদেশি কেন্দ্রগুলোতে পাসের হার ৯১.৯৬।

পরীক্ষায় ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৫২৭ জন ছাত্র এবং ১০ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৮ ছাত্রী অংশ গ্রহণ করে। ছাত্র ৮১.১৩ শতাংশ এবং ছাত্রী ৮৩.২৮ শতাংশ পাস করেছে। মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। ছাত্রী জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৩ হাজার ৪৮৪ জন, ছাত্র পেয়েছে ৫২ হাজার ১১০ জন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর পাসের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে মোট ৪ হাজার ৭৫১ জন, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪১৩ জন। আর মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে ১২.১৪। জিপিএ ৫ পেয়েছে মোট ৬ হাজার ২৮৭ জন। গত বছর পেয়েছিল ৩ হাজার ৩৭১ জন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এ বছরের পরীক্ষায় ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ও উত্তীর্ণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা চাই, সব শিক্ষার্থী পাস করবে, কিন্তু কোনো না কোনো কারণে অনেক শিক্ষার্থী পাস করে না। পাসের হারের কৃতিত্ব শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও শিক্ষকদের।’

বিভিন্ন বোর্ডে পাসের হারে ভিন্নতা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়। কোথাও কোথাও বেড়েছে, কোথাও কমেছে। যেখানে বেশি বেড়েছে সেখানে কোনো ধরনের শিথিলতা ছিল না।

ঢাকা বোর্ডে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমার কারণ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বোর্ডে গণিতে পাসের হার গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে। মানবিকে গত বছরের তুলনায় কমেছে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। যেহেতু মোট পরীক্ষার্থীর ৪০ শতাংশ মানবিকের পরীক্ষার্থী, তার প্রভাব পুরো পাসের হারের ওপরে কিছুটা পড়েছে। সিলেটে পাসের হার সবচেয়ে কম হওয়ার কারণ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানেও গণিতে পাসের হার কম। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার বেশি হওয়ার কারণ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কোথাও যখন এগিয়ে যাচ্ছে সেটা আমাদের শেখার আছে। ধারাবাহিকভাবে একটি বোর্ড ভালো করলে নিশ্চয়ই ভালো কিছু করছে। এই পরিসংখ্যান থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব। আইসিটি শিক্ষায় পাসের হার কম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইসিটির শিক্ষক এখনো অপ্রতুল। আমরা শিক্ষক বাড়ানো ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করছি। কারিকুলার রিভিউ করার ক্ষেত্রে আইসিটি শিক্ষাকেও আরও বেশি দক্ষ করে তুলতে পারি, সে বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত