সুতার ক্রমাগত দরবৃদ্ধিতে সংকটে জামদানি শিল্প। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাই এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে। তাই সুতার দাম কমানোসহ সরকারের কাছে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা চান জামদানি কারিগররা।
চট্টগ্রামে নগরের জেএম সেন হলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে গত রবিবার শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী জামদানি প্রদর্শনী ও মেলায় এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা। মেলায় অংশ নিয়েছে ১৭টি স্টল। নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে মেলায় অংশ নেওয়া কারিগর ও ব্যবসায়ীরা বংশপরম্পরায় এই জামদানি শিল্পের সঙ্গে জড়িত।
বিসিকের মার্কেটিং বিভাগের কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার রোকেয়া বেগম বলেন, হাতেবোনা হয় জামদানি শাড়ি। বংশপরম্পরায় কারিগররা জামদানি শাড়ি তৈরি করছেন। এটা দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য। জামদানি শাড়ির ক্রেতা বাড়াতেই প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন। হস্তশিল্প ও জামদানি শাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।
তবে জামদানি কারিগর ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ শিল্প ঘিরে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের মূল কারণ সুতার দরবৃদ্ধি। সুতার দামের ঊর্ধ্বগতিতে অনেকেই এ পেশা থেকে সরে আসছেন।
মেলায় অংশ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের হামিদা জামদানি উইভিং ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী ও জামদানি কারিগর মো. আবুল হাসেম। তিনি বলেন, ‘বংশপরম্পরায় এই হস্তশিল্পে জড়িয়ে পড়লেও আগামীতে এ শিল্প ধরে রাখা কঠিন হবে। কারণ আগে রেশমের বিমের সুতা ৮৫-৯০ টাকায় কিনতাম। সেই সুতা এখন নিতে হয় ১১০ টাকায়। এছাড়া কটনের বাইনের সুতা আগে বান্ডেলপ্রতি ১ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ টাকায়। একটা জামদানি শাড়ি তৈরিতে অনেক সুতা প্রয়োজন হয়। কারিগরদের মজুরি আছে, তাঁতের নানা খরচ আছে। সবমিলিয়ে শাড়ি তৈরিতে খরচ বাড়ছে।’ এই শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের সু-দৃষ্টি প্রত্যাশা করেন তিনি। সুতার দাম কমানো এবং জামদানি কারিগর ও তাঁত মালিকদের স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানান।
তপন চন্দ্র দাশ নামের এক কারিগর জানান, শতাধিক নকশার জামদানি শাড়ি এখন বাজারজাত করা আছে। মান অনুসারে এসব শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায়। চাহিদা আছে বলেই এই জামদানি শিল্প এখনো টিকে রয়েছে। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারকে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এই কারিগর।
