আইএস জঙ্গির দেশে প্রবেশ

লক্ষ্য নব্য জেএমবির শক্তি বাড়ানো

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ০২:০৭ এএম

নব্য জেএমবির শক্তি বাড়াতেই ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গি মুতাজ আবদুল মজিদ কফিল উদ্দিন বেপারী ওরফে মুতাজ (৩২) গোপনে দেশে এসে আত্মগোপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)-এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গতকাল মঙ্গলবার সিটিটিসির কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিটিটিসির উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, মুতাজ নব্য জেএমবির সঙ্গে যোগযোগ  করছিলেন। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন তাদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মুতাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মুতাজ তুরস্কে যান ২০১৬ সালে। দুই বছর পর সিরিয়ায় আইএসের হয়ে যুদ্ধ করেন। তারপর সেখানে সুবিধা করতে না পেরে তুরস্কে বা সৌদি আরবে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু যেতে পারেননি। এরপরই তিনি বাংলাদেশে আত্মগোপনের চেষ্টা চালান। তার উদ্দেশ্য ছিল এদেশের ভঙ্গুর নব্য জেএমবিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময়ে এদেশ থেকে ৪০ জনের মতো যুবক আইএসের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন। তাদের অনেকেই দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। মতাদর্শের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা ছিল তার। সেই অনুযায়ী নব্য জেএমবির সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকও হতো তার। যখন তারা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করতেন তখন তাদের পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত সরকার উৎখাত করে কীভাবে নাশকতা চালানো যায়। কীভাবে তথাকথিত আইএসের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যায়। তিনি দেশে আসার পর থেকে দেশে হঠাৎ করেই জঙ্গিবাদের ইস্যুটি ফের সামনে চলে আসে।

গত রবিবার রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে যাওয়া মুতাজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। তার মতো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও অন্তত ৪০ জন বিভিন্ন দেশ থেকে সিরিয়া আর ইরাকে গিয়ে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএসের খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। যাদের উগ্র-মৌলবাদী গোষ্ঠীর সদস্য বলা হয়। তবে দখল করা এলাকা থেকে আইএস উৎখাত হয়ে যাওয়ার পর এই বিদেশি জঙ্গিরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করছে। এরকমই একজন মুতাজ আব্দুল মজিদ কফিল উদ্দিন বেপারী ওরফে মুতাজ। সিটিটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করতে পেরে আইএস সম্পর্কিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে তিনি কেন বাংলাদেশে এসেছেন, তার সঙ্গে দেশের কোন কোন জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ আছে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে রিটা কার্টসের কোনো ভূমিকা আছে কি না, শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলার পরপরই কেন বাংলাদেশে আইএসের অবস্থান আলোচনায় আনা হয়Ñ এ রকম আরও অনেক বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম বলেন, বিদেশে যাওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গিদের (আইএস) একটি তালিকা ইমিগ্রেশনে দেওয়া আছে। তারা দেশে ঢোকার চেষ্টা করলেই আমরা তথ্য পাব। দেশে ঢুকলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত