রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় পানির সমস্যা লেগেই রয়েছে। কোথাও দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এই সমস্যা। কোথাও আবার কয়েক দিন ধরে। সিয়াম সাধনার মাস রমজানে এই সমস্যায় নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এ সময়টাতে বিশেষ ব্যবস্থায় হলেও তারা নিরবচ্ছিন্ন ওয়াসার পানির সরবরাহ চান।
গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তীব্র পানিসংকটে ভুগছেন রাজধানীর উত্তর বাড্ডার আলীর মোড় এলাকার বাসিন্দারা। প্রায় ১০ দিন একেবারেই পানি ছিল না। চার-পাঁচ দিন ধরে এক দিন আসে, তো আরেক দিন আসে না। তীব্র গরমের মধ্যে নাজেহাল অবস্থা তাদের। রমজান মাসে এই সমস্যার প্রভাব আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা ফেরদৌস গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গতকাল পানি আসছিল। আজ এখন পর্যন্ত পানি আসে নাই। জামা-কাপড় সব আধোয়া পড়ে আছে। একটু পর বাসায় বুয়া আসবে রান্না করতে। কিন্তু কলসে সামান্য কিছু পানি আছে। সন্ধ্যার খাবার আর সাহরির খাবার রান্না করতে তো অনেক পানি দরকার।’
এই গরমে গোসলের পানিও পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেসে থাকি প্রায় সাতজনের মতো। প্রত্যেকে গোসল করতে কত পানির দরকার! দুই-চার মগ পানি দিয়ে কোনোভাবে গোসল সারতে হচ্ছে। খুবই বিপদে আছি।’ জানালেন বাড়িওয়ালা মাঝে মধ্যে ওয়াসার পানি কিনে আনলেও তা পর্যাপ্ত হয় না।
পানি সংকটে আছেন দক্ষিণ মুগদার ব্যাংক কলোনির বাসিন্দারাও। তাদের ভোগান্তি প্রায় এক যুগের। কলোনির প্রথম দিকের বাড়িগুলো পানি পেলেও শেষের দিকের বাড়ি পর্যন্ত পানি পৌঁছে না। মোটর দিয়ে টেনেও পানি পায় না প্রায় ৩০-৪০টি বাড়ি। কলোনির বাড়িওয়ালা জাকির হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর সোমবার মোটামুটি কিছু পানি পেয়েছি। ব্যাপক আনন্দ নিয়ে গোসল করে মসজিদে তারাবি পড়তে গেছি। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) আবার পানি নাই। কখন যে আসে ঠিক নাই। রোজা রেখে দূর থেকে পানি আনা কি সম্ভব?’ সেখানকার আরেকজন বাড়িওয়ালা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একে তো পানি নাই, তার সঙ্গে ওয়াসার ৬০০ টাকার এক গাড়ি পানি কিনতে গেলে বকশিশ দিতে হয় ২০০ টাকা। তারপরও ওরা বলে পানির গাড়ি কাল দুপুরেও যেতে পারে, পরের দিনও যেতে পারে।’
জানতে চাইলে ওয়াসার পরিচালক (টেকনিক্যাল) এ কে এম শহিদউদ্দিন পানি সংকটের জন্য তীব্র গরমকে দায়ী করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে মানুষ এখন একাধিকবার গোসল করেন। এজন্য পানি বেশি খরচ হয়। কিন্তু আমাদের টিউবওয়েলগুলোর পানি সরবরাহের মাত্রা তো বাড়েনি। পানি বেশি ব্যবহার করায় টিউবওয়েলের কাছাকাছি বাড়িগুলোই পানি নিয়ে নিচ্ছে। শেষের দিকের বাড়িগুলো পানি কম পাচ্ছে।’
রোজায় ওয়াসা কিছু বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লোকালয়ে পানির ট্যাংক বসিয়ে ইফতারের সময় রোজাদারদের পানি সরবরাহ করা হয়। এছাড়া মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজের সময় পানির সমস্যা থাকলে খোঁজ নিয়ে গাড়িতে করে পানি সরবরাহ করা হয়।’
