পপকর্ন বিক্রেতার নিজস্ব বিমান নির্মাণ

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ০৩:৪৭ এএম

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের তাবুর এলাকার এক পপকর্ন বিক্রেতা নিজের জন্য একটি বিমান তৈরি করেছেন। রাস্তা কাটার মেশিন থেকে বিমানের ইঞ্জিন, পাটের কাপড় দিয়ে পাখা আর এক রিকশাওয়ালার কাছ থেকে ধার করে আনা চাকা দিয়ে মোহাম্মদ ফায়েজ নামের ওই পপকর্ন বিক্রেতা বিমানটি তৈরি করেছেন।

এমন বিমান নির্মাণ করে পাকিস্তানের বহু মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন মোহাম্মদ ফায়েজ। অর্থকষ্টে পড়ালেখা করতে না পারা আর সুযোগ না পেয়েও তার বিমান নির্মাণকে মানুষের তীব্র ইচ্ছাশক্তির জয় বলা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই আকাশে ছিলাম। আর কিছুই অনুভব করছিলাম না।’ টেলিভিশনে যন্ত্রাংশ নির্মাণ কৌশল এবং অনলাইন থেকে বিমান তৈরির ব্লুপ্রিন্ট দেখেই তিনি বিমান নির্মাণ করেছেন বলে জানান। ফায়েজ দাবি করছেন তার নির্মিত বিমান আকাশে উড়ছে। আর তা পরীক্ষা করতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী তার সঙ্গে দেখা করে তার কাজের প্রশংসা করেছেন। বিমানটি বর্তমানে তার গ্রামের বাড়িতে আছে। ৩২ বছর বয়সী ফায়েজের শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল বিমান বাহিনীতে যোগ দেওয়ার। কিন্তু স্কুলে পড়া অবস্থায় তার বাবা মারা যাওয়ায় পড়ালেখা বন্ধ করে

 

 

দিতে হয় অর্থাভাবে। মা এবং ছোট পাঁচ ভাইয়ের ভরণপোষণের জন্য বিভিন্ন কাজ করতে হয় তাকে। কিন্তু শত বাধার মধ্যেও বিমান তৈরির স্বপ্ন থেমে ছিল না তার। দিনে পপকর্ন বিক্রি আর রাতের বেলা নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে একটু একটু করে অর্থ জমান তিনি।

বিমান তৈরির জন্য প্রথমে তার দরকার ছিল তথ্য। শুরুতে তিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলের এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন সংক্রান্ত অনুষ্ঠান দেখে বাতাসের চাপ, ঘূর্ণন এবং চালনাবিদ্যা শেখেন। এরপর অনলাইন থেকে সংগ্রহ করেন বিমান তৈরির ব্লুপ্রিন্ট।

সবকিছু হয়ে যাওয়ার পর তিনি শুরু করলেন অর্থ সংগ্রহের কাজ। স্বপ্নপূরণের জন্য নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে দিলেন। আর স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার রুপি ঋণ নেন, যা তিনি এখনো পরিশোধ করে যাচ্ছেন।

নির্মাণ সামগ্রী জড়ো করার পর তৈরি শুরু করলেন স্বপ্নের বিমান। কয়েকবার ব্যর্থও হলেন তিনি। কয়েকবার নকশাতেও পরিবর্তন আনতে হয়। তার ক্ষ্যাপামিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তার পরিবারের সদস্যরা। ফায়েজের মা মুমতাজ বিবি বলেন, ‘আমি তাকে থামতে বলতাম। পরিবার এবং কাজের প্রতি মনোযোগী হতে বলতাম আমি। কিন্তু সে একটা কথাও শুনত না।’

দুই বছরের টানা চেষ্টার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সফল হন। ফায়েজের মতে, বিমানটিকে উড়ানোর কাজে একটি রাস্তা বন্ধ করতে তাকে সাহায্য করেন তার কিছু বন্ধু। বিমানটি ১২০ কিলোমিটার বেগে চলে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী আমির হুসেইন। তিনি বলেন, ‘মাটি থেকে আড়াই ফুটের মতো উঠে বিমানটি প্রায় তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে অবতরণের আগে।’ অবশ্য এমন দাবি যাচাই করতে পারেনি এএফপি।

এরপর ফায়েজ গ্রামবাসী সকলের সামনে দেখাতে চাইলেন তার বিমানের ক্ষমতা। মার্চের ২৩ তারিখকে তিনি বেছে নিলেন। কিন্তু সেদিন পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। ফায়েজ বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল আমি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোনো অপরাধ করেছি। আমি যেন পাকিস্তানের সবচেয়ে খারাপ মানুষ। অপরাধীদের সঙ্গে আমাকে আটকে রাখা হয়।’ অবশ্য আদালত তাকে তিন হাজার রুপি জরিমানার বিনিময়ে মুক্তি দেয়। পুলিশ তাকে নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত