ঢাকাসহ আশপাশের ৫ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন

নতুন করে হচ্ছে সব ছোট ব্রিজ-কালভার্ট

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ০৩:৪৯ এএম

ঢাকাসহ আশপাশের পাঁচ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ছোট ছোট সব ব্রিজ-কালভার্ট নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ১১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের বেইলি ও আরসিসি সেতুগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করতে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার বিদ্যমান বেইলি ও আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন করতে চায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এ উদ্দেশ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১১৯০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে।

ডিপিপিতে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ জেলার ৩৭৮৩ পিসি গার্ডার বা আরসিসি গার্ডার সেতু এবং ৩৯ মিটার সøাব সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা টেকসই, নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও আরামদায়ক হবে। যাতায়াত সময় ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক

           

ইবনে আলম হাসান গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই উন্নয়নের জন্য খুবই জরুরি। বিদ্যমান ছোট সব সেতু তুলনামূলক অপ্রশস্ত ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে যানজট হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে যানবাহন ও যাত্রীরা। এজন্য এই প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন কাজ শেষ করা যাবে।

ডিপিপি থেকে আরও জানা গেছে, সেতুগুলোকে টেকসই করতে প্রকল্পে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেতু নির্মাণকালে যথাযথ নিয়ম অনুসারে সেøজিং ঠিক রাখা, সেতুতে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা এবং এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রকল্পের সৃষ্ট সুবিধাদি টেকসই করার ব্যবস্থা রাখা।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে এখন বিশ্লেষণ চলছে। এরপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হবে। তবে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ, যা যানজট নিরসন ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। 

কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের আওতায় ১৮ দশমিক ৩১ লাখ ঘনমিটার মাটির কাজ, ২০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট, ৩৮২২.১২ মিটার সেতু ও ২৯৩৭০ মিটার ড্রেন নির্মাণ এবং রক্ষাপদ কাজ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ (সাইন, সিগন্যাল, রোড মার্কিং) সম্পন্ন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। এক্ষেত্রে প্যাকেজের সংখ্যা যথাসম্ভব কম রাখা, ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজ দ্রুত করা হবে। তিনি বলেন, পূর্বে যেসব ঠিকাদার ঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি, তাদের কাজ না দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। কারণ নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারলে নতুন করে আর ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত