বিদ্যুৎ ছাড়াই প্রাকৃতিক পরিবেশে সারাজীবন কাটিয়ে দিলেন ভারতের একজন নারী অধ্যাপক। ৭৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত এ শিক্ষিকা বাস করেন পুনের বুদওয়ার পেত এলাকায়।
এনডিটিভি জানায়, পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন ড. হেমা সানে। দীর্ঘদিন তিনি পুনের গারবারে কলেজে অধ্যাপনাও করেন।
কিন্তু গ্রামে ছোট একটি কুঁড়েঘরে থাকেন তিনি। ঘরটিতে তিনি রাখেননি বিদ্যুৎ সংযোগ। পুরো ঘরের আশপাশ জুড়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ এবং পাখির কলাকাকলি। তার দিন শুরু হয় ভোরের পাখির ডাকাডাকিতে।
ড. হেমা বলেন, “খাদ্য, বাসস্থান এবং পোশাক-আশাক হচ্ছে বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদা। এক সময় তো বিদ্যুৎ ছিল না। অনেক পরে এসেছে। তাই আমি বিদ্যুৎ ছাড়া মানিয়ে নিতে পারি।”
এ শিক্ষিকার সঙ্গী বলতে একটি কুকুর, দুইটি বিড়াল এবং অসংখ্য পাখি। তিনি বলেন, “এই আবাস তো তাদেরই। আমার কিছুই না। আমি তো তাদের দেখাশোনার জন্যই এখানে আছি।”
“পাখিরা আমার বন্ধু। আমি যখন ঘরের কাজ করি, তারা তখন উড়ে আসে।” আরও বলেন তিনি।
ড. হেমা বলেন, “মানুষ আমাকে বোকা বলে। আমি পাগল হতে পারি কিন্তু আমি কীভাবে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করব সেটি আমার ব্যাপার। নিজের মতো করেই আমি থাকতে চাই।”
উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং পরিবেশ বিষয়ে অনেকগুলো বই লিখেছেন এ নারী। তার বইগুলোও বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। মার্কেটে সহজেই কিনতে পাওয়া যায়। অবসর সময়ে তিনি লেখালিখি করেন। এখনো সেটিই করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার জীবনে আমি কখনো বিদ্যুতের প্রয়োজনবোধ মনে করেনি। মানুষ আমাকে জিজ্ঞাসা করে, আপনি বিদ্যুৎ ছাড়া কীভাবে থাকেন? আর আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি, তোমরা বিদ্যুৎ নিয়ে কীভাবে থাক?
মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এমন পরিবেশেই কাটিয়ে দিতে চান। এ শিক্ষিকা বলেন, “মানুষ আমাকে জিজ্ঞাসা করে, কেন আপনি এ ঘর বিক্রি করে দিচ্ছেন না? এ জায়গা বিক্রি করে তো অনেক টাকা পাবেন। আমি বলি, আমি না থাকলে এ গাছ এবং পাখিদের দেখবে কে? আমি কোথাও যেতে চাই না। আমি এদের সঙ্গেই থাকতে চাই।”
