ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পাওয়া মধুর সেই জয়ের পর একদিনের ব্যবধানেই টাইগাররা নামতে যাচ্ছে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। ডাবলিনে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ৩টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই ত্রিদেশীয় সিরিজ এক অর্থে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ প্রস্তুতিমূলক সিরিজ। যদিও আইরিশ কন্ডিশন ও ইংলিশ কন্ডিশন ভিন্ন বলে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাসহ অনেকেরই এই মতের সঙ্গে রয়েছে ভিন্নতা। তারপরও ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো করতে পারলে বিশ্বকাপে তা মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে টাইগারদের।
কিন্তু সফরে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল খুবই বাজে। প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে হার বড় শঙ্কার মধ্যেই ফেলে দিয়েছিল টাইগার সমর্থকদের। তবে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে মঙ্গলবারের ম্যাচ সব শঙ্কা উড়েয় দিয়েছে। এখন কেবল সামনে তাকানোর পালা।
বাংলাদেশ যে উইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ শুরু করেছে, সেই দলটির বিপক্ষেই স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচে এক রকম উড়ে গেছে। হেরেছে ১৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। স্বাগতিক হলেও আইরিশদের বিপক্ষে মানসিকভাবে এখন এগিয়ে টাইগাররাই।
পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের পক্ষে। দুই দল ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে ৯ বার। যার ৬টিতে জয় বাংলাদেশের, ২টিতে আয়ারল্যান্ডের। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডের হয়েছিল ত্রিদেশীয় সিরিজ। অন্য দল ছিল নিউজিল্যান্ড। যেখানে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও অন্যটিতে জয় পায় টাইগাররা। বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের কাছে সর্বশেষ হেরেছে ২০১০ সালে।
মঙ্গলবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগারদের ব্যাটিং ছিল এককথায় অসাধারণ। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা খেলেছেন দারুণ। ২৬২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫ ওভার হাতে রেখেই মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতেই যোগ করেন ১৪৪ রান। তামিম ৮০, সৌম্য ৭৩, সাকিব আল হাসান অপরাজিত ৬১ ও মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ৩২ রান করেন।
তার আগে বোলিংয়ে শেষ দশ ওভার টাইগাররা ছিল অনন্য। শেষ দশ ওভারের আগ পর্যন্ত বোলিং চিন্তার ভাঁজই ফেলেছিল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে সেটি কাটিয়ে ওঠার পালা।
উইন্ডিজের বিপক্ষে বল হাতে সবচেয়ে দুর্দান্ত ছিলেন মাশরাফী। সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন তিনি। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমান ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। তবে মোস্তাফিজের বোলিং নিয়ে রয়েছে দুর্ভাবনা।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা অস্ত্র ভাবা হচ্ছে যাকে, সেই মোস্তাফিজ ১০ ওভার বল করে ৮৪ রান খরচ করেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের ঠিক আগের ওয়ানডেতে খরচ করেছেন ৯৩ রান। তবে বিশ্বকাপের আগে ঠিকই ছন্দে ফিরবেন কাটার মাস্টার, এমনটাই আশা সবার।
