নতুন চুল গজাতে মিনোক্সিডিল?

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ১১:০১ পিএম

ইন্টারনেটের কল্যাণে আজকাল অনেক কিছুতেই আকৃষ্ট হন মানুষ। ভালোমন্দ না জেনে, নিয়ম না মেনেই ব্যবহার শুরু করেন। তেমনই হলো নতুন চুল গজানোর ওষুধ মিনোক্সিডিল (Minoxidil)। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই ওষুধ ব্যবহার করতে হবে, তা না হলে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।

চুল পড়ার রাসায়নিক কারণ

চুল পড়ার রাসায়নিক কারণ আসলে খুবই জটিল। চুলের গোড়ার বা ফলিকলে একটি এনজাইম তৈরি হয়, যার নাম ফাইভ আলফা রিডাকটেজ। এই এনজাইম রক্তবাহিত হরমোন টেস্টোস্টেরনকে ডাই হাইড্রো-টেস্টোস্টেরনে পরিণত করে। যার আরেক নাম ডিএইচটি। ডিএইচটি চুলের গোড়ায় আক্রমণ চালায় এবং চুল দুর্বল করে ঝরে পড়তে সাহায্য করে। পুরুষদের চুল সাধারণত সামনের দিকে পড়ে এবং টাকে পরিণত হয়। আর মহিলাদের পুরো মাথার চুলই এককভাবে পড়ে এবং পাতলা হয়ে যায়।

মিনোক্সিডিল

যাদের মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে অথবা টাক হয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে মুগ্ধ হয়ে মিনোক্সিডিল ব্যবহার করেছেন। যদিও এটি মূলত উচ্চরক্তচাপের ওষুধ কিন্তু টাক মাথায় ব্যবহারে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া গেছে। কেউ কেউ টানা কয়েক মাস ব্যবহার করে কোনো উপকার না পেয়ে হয়তো আর সে পথে হাঁটেননি। আবার কেউ কেউ হয়তো কয়েক মাস ব্যবহার করার পর কিছুটা সুফল পেয়ে একসময় ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে আবার চুল পড়া রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু আসলেই কি এই ওষুধ কাজ করে? চিকিৎসকরা এ বিষয়ে কী বলেন?

কার্যকারিতা

মিনোক্সিডিল কারও কারও ক্ষেত্রে কিছুটা উপকার হলেও এটা চুল পড়া রোগের আদৌ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দেখা গেছে, মিনোক্সিডিল সবার ক্ষেত্রে কাজ করে না আর যাদের ক্ষেত্রে কাজ করে তাদেরও মাত্র ৪০ শতাংশ চুল গজাতে সাহায্য করে। কিন্তু সমস্যা হলো, এটি তাদের অনবরত ব্যবহার করে যেতে হয়, অর্থাৎ ব্যবহার করা বন্ধ করলেই আবার আগের মতো টাক সমস্যা ফিরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

একেকজনের ক্ষেত্রে একেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেখা দেয়। এটি ব্যবহারে অনেকের ত্বকে চুলকানি, শুষ্কতা, লালচে ভাব, জ্বালা-যন্ত্রণা ইত্যাদি সৃষ্টি হতে পারে। অনেকের চুল বা দাড়ি ঝড়তে পারে। মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আর যাদের হৃদরোগ আছে, তাদের জন্য এটা না ব্যবহার করাই ভালো।

কারা ব্যবহার করতে পারবেন?

যাদের বয়স ১৭ থেকে ৪৫ বছর

যাদের বড় কোনো অসুখ নেই

সম্প্রতি যাদের বড় কোনো রোগের চিকিৎসা করা হয়নি

যাদের ব্লাড প্রেশার নেই

যাদের চুল ঝরে গেছে

যাদের নিয়মিত চুল পড়ে

এই ওষুধ ব্যবহার করাই সমাধান নয়। আগে চুল পড়ার আসল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। তারপর চিকিৎসক যদি মনে করেন তবেই তিনি এই ওষুধ দিতে পারেন। তার আগে কখনোই নিজে নিজে এই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে শুধু ঝুঁকিই বাড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত