২০১৯-২০ অর্থবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে মূল এডিপির তুলনায় ২৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর মূল এডিপিতে বরাদ্দ ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা থাকলেও মাঝপথে তা কাটছাঁট করা হয়।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল বুধবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সভাপতিত্ব করেন। ব্রিফিংয়ের সময় তিনি বলেন, বর্ধিত সভায় এডিপির খসড়া করা হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটা আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছর এডিপির আকার হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি ও বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকেও বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
বর্ধিত সভার তথ্য অনুযায়ী, বরাদ্দের দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে পরিবহন খাত। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ, ভৌত অবকাঠামো এবং চতুর্থ অবস্থানে শিক্ষা ও ধর্মখাত।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সব খাতকেই সমান প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে উন্নয়ন করতে যে কৌশল অবলম্বন করছেন তা থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ সেটা বাস্তবসম্মত হবে না। তিনি বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাÑ এই ৪-৫ ক্ষেত্রেই কাজ চলছে। কারণ, এগুলো ভালো ফল দিয়েছে।’
প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতাবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘসূত্রতার ট্রেন্ড ভাঙার চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রকল্প তদারকি সংস্থা আইএমইডিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। মাঠে যে প্রকল্প পরিচালকরা আছেন, তাদেরকে অনেক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’
এম এ মান্নান বলেন, বর্তমান এডিপির অগ্রগতি এপ্রিল পর্যন্ত ৫৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। টাকায় এর পরিমাণ ৯৬ হাজার ৪৯৩ কোটি। গত বছর এই সময় এডিপির অগ্রগতি ছিল ৫২ দশমিক ৪২ শতাংশ। টাকায় যার পরিমাণ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি।
এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন বলেন, পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ। শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ, টাকায় যার পরিমাণ ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ওপরের চার খাতের পরেই বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে বরাদ্দ ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা এডিপির ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা এডিপির ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬১৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা এডিপির ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পানিসম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা এডিপির ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা এডিপির ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামিমা নার্গিসসহ কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
