মিরাজের সঙ্গে জুটিই টার্নিং পয়েন্ট : সাকিব

আপডেট : ০৯ মে ২০১৯, ১২:৩৯ এএম

‘এমন ক্লিনিক্যাল পারফরম্যান্স আমরা খুব বেশি ম্যাচে করি না।’ গতকাল ডাবলিনে ব্রেকফাস্ট টেবিলে বলছিলেন সাকিব আল হাসান। প্রসঙ্গ অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে দাপটে জেতা ম্যাচ। যেখানে সব বিভাগে দারুণ শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে ৮ উইকেটের জয়ে আসর শুরু করেছে বাংলাদেশ। আর ওই ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তার বোলিং পার্টনারশিপটাকেই ম্যাচের আসল টার্নিং পয়েন্ট মানেন সাকিব।

শেই হোপ আরেকটি সেঞ্চুরি করেছেন। দুটি দারুণ পার্টনারশিপও করেছেন। সাকিব চতুর্দশ ওভারে এসেছিলেন বোলিং আক্রমণে। ততক্ষণে ১৩ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭২ রান ক্যারিবিয়ানদের। সপ্তদশ ওভারে অফ স্পিনার মিরাজ এলেন। এবং দ্বিতীয় বলেই উইকেট। সুনিল অ্যামব্রিসকে (৩৮) আউট করে ভেঙেছেন ৮৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। দারুণ ব্রেকথ্রুর পরের ওভারে বিপজ্জনক ড্যারেন ব্রাভোকে (১) আউট করেছেন সাকিব। ২ উইকেটে ৯০। ২৯ ওভার শেষে সাকিব-মিরাজ বোলিং জুটির বিচ্ছেদ ঘটান অধিনায়ক। তখন ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৩৬।

ক্যারিবিয়ানরা আর উইকেট না হারিয়ে ৪০ ওভারে পা রাখে। এরপর দুই ওভারে পাঁচ বলের মধ্যে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ৩ উইকেট নিলেন। আর ওই শেষ ১০ ওভারে মোটে ৬৪ রান তুলতে পারে উইন্ডিজ। উইকেট হারায় ৭টি। দলের স্কোর ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৬১।

মাশরাফী ম্যাচটাকে নিজেদের দিকে পুরোপুরি নিয়ে এলেও সাকিব বলছিলেন, ‘আসলে শুরুটা তো আমরা খুব একটা ভালো করিনি। আমার কাছে মনে হয়, ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টা হলো আমি আর মিরাজ যখন বল করছিলাম। ওই সময়ে ওদের পার্টনারশিপটা খুব ভালো হচ্ছিল। এই সময়ে আমরা দুজন দুইটা ব্রেকথ্রু দিই। কারণ, ওরা যেভাবে শুরু করেছিল তাতে একপর্যায়ে আমরা মনে করেছিলাম ৩০০-৩২০ এরকম হবে। সেখানে আমাদের দুজনের ভূমিকাটা অনেক বেশি ছিল। তারপর সবাই ব্যাকআপ করেছে।’ পরের অংশটা সাকিবের কাছে তাই ঘটনার ধারাক্রম, ‘শুরুর দিকে পেস বোলাররা ওভাবে বোলিং করতে না পারলেও পরের দিকে ভালো কামব্যাক করতে পেরেছে। সেটার বড় কৃতিত্ব আমি মনে করি দুই স্পিনারকে দেওয়া উচিত।’

নিজেই কৃতিত্ব চেয়ে নিচ্ছেন সাকিব। যদিও ১০ ওভারে ৩৩ রানে ১ উইকেট তার সক্ষমতার প্রমাণ। এরপর ‘রান এ বল’ ৬১ করে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে ফিরেছেন। হোপ ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেলেও মাশরাফীর ম্যাচসেরা সাকিব।

চোটের কারণে নিউজিল্যান্ড সফর মিস করেছিলেন সাকিব। এরপর আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের কাছে হারা প্রস্তুতি ম্যাচে জাতীয় দলের সঙ্গে প্রথম খেললেন। আর আন্তর্জাতিকে প্রথম উইন্ডিজের ম্যাচটি। দুর্দান্ত এই ফেরা সাকিবকে দিচ্ছে স্বস্তি, ‘অবশ্যই ভালো লাগে। প্রায় ছয় মাস পর ম্যাচ খেললাম জাতীয় দলের হয়ে। তাই স্বাভাবিকভাবে একটু নার্ভাসনেস কাজ তো করতেই পারে। যেহেতু প্র্যাকটিস ম্যাচটা ভালো করেছিলাম তাই আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন বোলিং অ্যাটাকের বিপক্ষে ভালো করতে পারা অনেকটা স্বস্তির ব্যাপার। শুরুটা ভালো হয়েছে এখন বাকিটা ধরে রাখতে হবে।’

আয়ারল্যান্ডের সিরিজটা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। আর উইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় দলে কী প্রভাব রাখবে তা শুনুন সাকিবের কাছে, ‘সবাই এটিতে আত্মবিশ্বাসী থাকবে। আমি নিশ্চিত। কারণ, এরকম ক্লিনিক্যাল পারফরম্যান্স আমরা খুব বেশি ম্যাচে করি না। সেখানে এত ভালো একটা পারফরম্যান্স, সবাই অংশগ্রহণ করেছে। সুতরাং, এটা দলের জন্য খুব ভালো একটা দিক।’ সাকিব বলছিলেন, ‘অবশ্যই প্রথম ম্যাচ হওয়ার আগে অনেকের মধ্যে সংশয় থেকে থাকতে পারে। তবে আমার মনে হয়, ম্যাচের পর সবার সেই সংশয় দূর হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত