আ.লীগে যোগ দিয়েই সভাপতি পেটালেন বিএনপি নেতা

আপডেট : ১০ মে ২০১৯, ০২:৩৫ এএম

বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে করেছেন স্থানীয় নির্বাচন। হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। সেই দলবদলকারী চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে নিজ হাতে

পেটানোর কথা অস্বীকার করেছেন তিনি।

গত বুধবার বিকেলে শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে প্রকাশ্যে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি গোহাইল ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে শিক্ষক আফজাল হোসেন জেলা শিক্ষা অফিসে একটি অভিযোগ করেন। গত বুধবার ওই অভিযোগের তদন্তের দিন ধার্য ছিল। বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আমান উদ্দিন ম-ল অভিযোগটি তদন্ত করতে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান। সে সময় শিক্ষকদের অনুরোধে স্কুলে যান গোহাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ইউসুব আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী।

এদের মধ্যে ফরহাদ হোসেন ছিলেন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগের সাক্ষী। ফরহাদ হোসেনকে সেখানে দেখে ক্ষিপ্ত হন অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল। তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজুকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে চেয়ারম্যান তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে ফরহাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু করেন। সে সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তাদের থামাতে গেলে চেয়ারম্যান ফজু ও তার সহযোগীরা তাদের মারপিট করেন। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত শাজাহানপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুশান্ত কুমার পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হলে থানার পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদসহ অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

ঘটনার বিষয়ে ইউসুব আলী বলেন, পুলিশের সামনে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমার গায়ে হাত তুলেছে। পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। ঘটনার বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের জানানো হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত করতে এলে স্থানীয় কিছু লোকজন সেখানে ঝামেলা সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে তিনি সেখানে যান। তিনি তদন্তকালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বাইরের লোকজনকে চলে যেতে বললে তারা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। তিনি নিজে কাউকে মারপিট করেননি বলে দাবি করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান।

শাজাহানপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল হয়। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে। ওই ঘটনায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু দীর্ঘদিন গোহাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনের সময় তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্তের দিন আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত