ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গি মুতাজ আবদুল মজিদ কফিলউদ্দিন বেপারী ওরফে মুতাজকে (৩২) একজন দোভাষীর মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার চার দিনের রিমান্ডের শেষ দিন। এদিনও জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোনো তথ্য না পাওয়ায় তাকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
এ বিষয়ে সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মুতাজের ভাষাগত জটিলতার কারণে
একজন দোভাষীর সহায়তা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তার কাছ থেকে আশাব্যঞ্জক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে কি না পরে জানানো হবে।
জিজ্ঞাসাবাদকারী ওই কর্মকর্তা বলেন, মূলত এ দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর কোন কোন সদস্য আইএসের পক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন, তাদের সর্বশেষ অবস্থান কোথায় তা জানার চেষ্টা চলছে। এছাড়া এ দেশে কার কার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে, তিনি কেন এখানে এসেছেনÑ মূলত সেসব বিষয়েই রিমান্ডে জানার চেষ্টা চলছে।
এর আগে সিটিটিসির উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম খান বলেছিলেন, মুতাজ নব্য জেএমবির যেসব সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গত ৫ মে পুলিশ রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর ১০ নম্বর সড়কের বায়তুন নূর জামে মসজিদের সামনে থেকে মুতাজকে গ্রেপ্তার করে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুতাজ জানিয়েছেন, তার বাবা বাংলাদেশি ও মা পাকিস্তানি। বাংলাদেশে শরীয়তপুরের সখীপুরে তার বাড়ি। কিন্তু তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। বাবা মারা গেলেও সৌদি আরবে তার স্বজনরা রয়েছেন। মুতাজ ২০১৪ সালে সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করেন। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি ২০১৬ সালে সৌদি আরব থেকে তুরস্কে যাওয়ার পর আইএসের ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। ২০১৮ সালের মে মাসে সিরিয়ায় গিয়ে আইএস যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সিরিয়ায় আইএসের পতন হলে মুতাজ পালিয়ে তুরস্কে চলে যান। সেখান থেকে গ্রিস হয়ে ইউরোপের অন্য কোনো দেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেও পারেননি। ২০১৮ সালের শেষদিকে তুরস্কের পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে মুতাজ গোপনে গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন।
