একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী চার মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের।
শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে মণি-সিংহ ফরহাদ ট্রাস্ট ভবনের শহীদ তাজুল মিলনায়তনে এক সভায় এ অভিযোগ করা হয়। সভায় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে এ প্রতিবেদনের ওপর বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
রাণা দাশগুপ্ত বলেন, ‘পঞ্চগড় জেলে আটকাবস্থায় আগুনে ঝলসে দিয়ে আইনজীবী পলাশ কুমার রায়কে হত্যা করা হয়েছে। প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের সন্ধানে তার ফরিদপুরের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। নির্যাতন, জায়গা-জমি দখল, মন্দির উপাসনালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা সারাদেশে বাড়তে শুরু করেছে’।
অবিলম্বে এই বিষয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এহেন নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ করা না গেলে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ধর্মীয়-জাতিগত সব সংখ্যালঘু সংগঠনকে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে সমন্বিত করে আগামী ২৫ মে শনিবার সকাল ১০টায় সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়া হয়।
মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, শাহরিয়ার কবির ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের প্রাণনাশের হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় সভায়। এসব হুমকিদাতা ও তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া ২০২০ সালের ১১ ও ১২ ডিসেম্বর ঐক্য পরিষদের একাদশ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় আরও বক্তব্য দেন সর্বশ্রী কাজল দেবনাথ, নির্মল রোজারিও, জে. এল. ভৌমিক, মঞ্জু ধর, মিলন কান্তি দত্ত, বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, ড. কিশোর মণ্ডল, পদ্মাবতী দেবী, অ্যাডভোকেট দিপংকর ঘোষ, অধ্যাপক অরুণ গোস্বামী, রাহুল বড়ুয়া, ব্যারিস্টার তাপস কুমার বল প্রমুখ।
