পথ দেখাচ্ছেন জাহানারা

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ১২:৩৯ এএম

ভারতের ওমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্টকে বলা হয় মেয়েদের আইপিএল। মেয়েদের ক্রিকেট দুনিয়ায় উদাহরণ তৈরি করা এই টুর্নামেন্টে খেলছেন বাংলাদেশের জাহানারা আলম। তার দল ভেলসিটি। এই টুর্নামেন্টে যে ১২ জন বিদেশিনী খেলছেন তার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি হচ্ছেন জাহানারা। এমন সুযোগ এ দেশের নারী ক্রিকেটের ক্ষেত্রে বিরল। জাহানারা বলেছেন, ‘বিদেশি ১২ জনের পুলে একমাত্র বাংলাদেশি ছিলাম আমি। মেয়েদের এমন একটা পথিকৃত টুর্নামেন্টে মিতালি রাজের মতো কিংবদন্তি অধিনায়কের অধীনে খেলব... এটা আমি এক মাস আগেও কল্পনা করিনি।’

এমন অকল্পনীয় ব্যাপার কিন্তু জাহানারার ক্যারিয়ারে এই প্রথম নয়। খুলনার মেয়ে একদিন ক্রিকেটার হবে সেটাই কি ভাবতে পেরেছিলেন কোনোদিন? জাহানারা বলেন, ‘১৪ বছর বয়স পর্যন্ত আমি কোনো ক্রিকেটারের নামই জানতাম না। অনুসরণ করার মতো কোনো আদর্শও ছিল না। ক্রিকেটের নিয়মটা তখন আমার কাছে জটিল মনে হতো।’ এরপর ২০০৭ সালে কীভাবে ট্রায়াল দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে জাহানারার বক্তব্য, ‘একদিন (শেখ) সালাউদ্দিন স্যার, যিনি তখন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের খুলনা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি ক্রিকেট খেলতে চাই কিনা। এরপর আমি ট্রায়াল দিলাম এবং সব বিভাগে খুব বাজে করেছিলাম। কল্পনা করতে পারেন? আমি ট্রায়ালে গিয়েছিলাম স্পিন ও পেস বোলিংয়ের কিছু না শিখে। এমনকি ট্রায়ালের আগে আমি ব্যাটও হাতে নিইনি।’ জাহানারার জন্য এটাই কেবল একমাত্র বাধা ছিল না। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন মেয়ের পক্ষে ক্রিকেট খেলা কতটা কঠিন তা সবার জানা। সুতরাং রক্ষণশীলতার বাধা ভাঙতে হয়েছে জাহানারাকে। সে ক্ষেত্রে অবশ্য বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছেন তিনি। ‘নিজেকে অতি সৌভাগ্যবান মনে করি। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে একটা ছোট্ট মেয়েকে স্কুলে না পাঠিয়ে খেলার মাঠে পাঠানোর কথা ভাবাই যায় না।’ জাহানারার পরিবার ভেবেছিল। তাই হয়তো আজ বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য উদাহরণ হতে পেরেছেন তিনি। সূত্র : ক্রিকইনফো।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত