ভারতে বিভেদের গুরু মোদি

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ০১:৪১ এএম

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভেতর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একহাত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন। ‘ইন্ডিয়াস ডিভাইডার ইন চিফ’ শিরোনামে আগামী ২০ মে টাইমে থাকছে বিশেষ প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই গত বৃহস্পতিবার এ নিয়ে আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে গত পাঁচ বছর ধরে ভারতে বেড়ে চলা অসহিষ্ণুতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের সমালোচনা করা হয়।

প্রতিবেদনের লেখক অতীশ তাসির বলেন,

 ‘২০১৪ সালে মোদি যখন গুজরাটের ক্ষমতায় ছিলেন তখন ভারতের শাসন ছিল কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হাত থেকে দেশের ক্ষমতা চলে যায় কার্যত নরেন্দ্র মোদির হাতে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার সূত্রপাত ১৯৪৭ সাল থেকে। তখন ব্রিটিশরা ভারতকে দুই ভাগে বিভক্ত করে। ভারতীয় মুসলিমদের নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। কিন্তু ক্যামব্রিজ শিক্ষিত জওয়াহেরলাল নেহরুর হাত ধরে হিন্দু রাষ্ট্র গঠিত হয়নি। ভারত নামক দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম থেকে যায় এবং দেশকে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আর এই অসাম্প্রদায়িকতার এক ভাগে ধর্ম এবং অন্য ভাগে রাষ্ট্র। ভারতীয় মুসলিমদের শরিয়াভিত্তিক পারিবারিক আইনি ব্যবস্থা রাখার অধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু মোদির আমলে শরিয়া এই আইনের ওপর আঘাত হানা হয় ২০১৮ সালে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদির চমক ছিল ভারতের সমাজের শ্রেণি বিভেদ ও বৈষম্যকে পুঁজি করে ক্ষমতা গ্রহণ করা। আমেরিকান ঐতিহাসিক অ্যানি অ্যাপেলবাম এ ঘটনার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘যেসব মানুষ আগে জানত না যে তাদের একের সঙ্গে অপরের বক্তব্যে মিল নেই, সেই অসমাধানযোগ্য বিষয়টি বিভেদাকারে মোদি তুলে ধরেন।’ মোদির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভারতে বামপন্থি বা ডানপন্থিদের উত্থান হয়নি, হয়েছে উগ্রপন্থার।

ভারত যে অসাম্প্রদায়িকতা এবং সমাজতান্ত্রিকতার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল সেই মূল ভিত্তিতেই আঘাত হানেন মোদি। তিনি কোনো বিকল্প মানদণ্ড না দাঁড় করিয়েই মানুষের মধ্যে অব্যক্ত বিভেদকে ব্যক্ত করেছেন, যার ফলাফল তার গত পাঁচ বছরের ক্ষমতাকালীন দেখা গেছে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে।

ভারতের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ২০ মের সংখ্যায় বিশেষ প্রতিবেদন ছাপবে পত্রিকাটি। ফের একবার মোদি সরকার ক্ষমতায় এলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের পক্ষে তা সহ্য করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে ভারতের বুনিয়াদি শর্ত, দেশ গঠনের কারিগর, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, বিশ্ববিদ্যালয়, করপোরেট দুনিয়া এবং সংবাদমাধ্যম সব ক্ষেত্রেই অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

নরেন্দ্র মোদির আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে, ‘মোদির জমানায় সব শ্রেণির সংখ্যালঘু মানুষ, সে উদারপন্থি হোক বা নিম্নবর্গের মুসলিম অথবা খ্রিস্টান, সবাইকে হিংসার শিকার হতে হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত