রমজানের শুরুতেই রাজধানীতে বেড়েছে ফলের চাহিদা। বাড়তি এই চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দামও। তীব্র দাবদাহের এই সময়ে ইফতারে গতানুগতিক পদের বদলে ফলই প্রাধান্য দিচ্ছেন সবাই। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। রোজা শুরু হতে না হতেই বেশিরভাগ ফলের দামই বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে বাজারে ফলের জোগানে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ী। আর ক্রেতাদের বক্তব্য রমজানে ফলের দাম কমানোর সরকারের চেষ্টা বিফলে গেছে।
রাজধানীর ফলের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে তরমুজের দাম। রোজার আগে যে তরমুজ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এখন তার দাম হাঁকা হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
কয়েক গুণ বেড়েছে কলার দামও। এক সপ্তাহ আগে যে সবরি কলার ডজন ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া আনারস, পেয়ারা, ডাব, মাল্টা, আঙুর, বেল, আপেল, নাশপাতি ও খেজুরের দামও বেড়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে যে সবরি কলার ডজন ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা এখন তা বেড়ে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাগরকলার দাম ডজনে ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে চাপা কলার দামও। আগে যে কলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা ডজনে বিক্রি হতো তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। গত সপ্তাহেও যে বেলের জোড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকা পিসের আনারস বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। ৪০ থেকে ৫০ টাকার ডাব প্রতিপিস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। মাঝারি সাইজের তরমুজ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, আকারে একটু বড় তরমুজ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিদেশি ফলের মধ্যে মাল্টা প্রতি কেজি ১৪০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, আঙুর ২০০ থেকে বেড়ে ২৮০ টাকায়, রেড গোল্ডেন আপেল ১৬০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুরের দামেও দেখা গেছে উল্লম্ফন। তিউনিসিয়া জাতের প্রতি কেজি খেজুর ৪৫০ টাকা, সুপ্রি ২৯০ টাকা, জাহেদি ২২০ টাকা, ডেসটিনি ২৯০ টাকা, ফরিদা ৩০০ টাকা, সায়ার ১৭০ টাকা, সামের ১৮০ টাকা ও মরিয়ম খেজুর ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ রোজার আগে এগুলোর দাম তুলনামূলক অনেক কম ছিল।
এদিকে ফলের দামের এই উল্লম্ফনে দিশেহারা ক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে ফল কিনতে আসা আবুল হাশেম বলেন, ‘কলার যে দাম তা আমার কেনার সামর্থ্যরে বাইরে। এক হালি
সবরি কলা ৫০ টাকা দিয়ে নিলাম। দুইটাও কিনতে পারি না, লজ্জা লাগে। সঙ্গে মেয়েকে নিয়ে এসেছি বলে নিতে হলো। চারটি কলা দিয়েই-বা কী করব। বাসায় শাশুড়ি, ছোট বোনও আছে।’
তিনি বলেন, সবকিছুর দাম যদি এভাবে বাড়ে তাহলে আমরা কীভাবে চলব। অল্প বেতনের একটা সরকারি চাকরি করি। পরিবারে অনেক লোক।
ফলের খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি ব্যবসায়ীরা বেশি দাম ধরে বসে থাকে। সেই বেশি দামেই তাদের কিনতে হয়। আর এ কারণেই দাম বাড়তি রাখতে হয়।
আগারগাঁওয়ের ফল ব্যবসায়ী সোহাগ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কলা তেজগাঁওয়ের পাইকারি বাজার থেকে নিয়ে আসি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা এক গাড়ি মাল নামালে বেশি দাম ধরে বসে থাকে। সেই বেশি দামেই আমাদের নিয়ে আসতে হয়। এক টাকাও কম রাখে না।
তিনি বলেন, রমজান উপলক্ষে দাম বেড়েছে কিনা জানি না। তবে পাইকারি বাজারে মাল কিন্তু কম নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১০ রোজার পর দাম কিছুটা কমতে পারে।
ইফতারের জন্য কারওয়ান বাজারে ফল কিনতে আসা শাহিন শেখ বলেন, ৮০০ টাকা দিয়ে যদি একটা তরমুজ কিনতে হয় তাহলে বাকি ফল কিনব কীভাবে। সব ফলের দাম বেড়েছে অনেক। এই গরমে রোজা রেখে ফল দিয়ে ইফতার করলে একটু ভালো লাগে।
তরমুজের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, তরমুজের বাজারে আগুন লেগেছে। মানুষ কিনতে এসে দাম শুনেই চলে যাচ্ছে। আমরাই বেশি দামে কিনেছি। কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। এদিকে সরকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনশীল রাখার ঘোষণা দিলেও রোজা শুরুতেই সেই প্রতিশ্রুতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, রোজা উপলক্ষেই দামটা বেড়েছে। বিভিন্ন ধাপে দাম বাড়ার কারণেই তাদেরও কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। আর ক্রেতারা বলছেন, সরকারের দাম কমানোর চেষ্টা আসলে বিফলে গেছে।
