সন্তানের জন্য মা কখনো মমতাময়ী, কখনো পরম আশ্রয়, আবার কখনো হয়ে ওঠেন কৌশলী।
সন্তানকে ভালো রাখতে ইতিহাসে মায়েদের করতে হয়েছে অনেক কিছু। মাতৃস্নেহের অগণিত গল্প থেকে কয়েকটি নিয়ে লিখেছেন নিলুফা ইয়াসমীন
পুত্রের জন্য অলিম্পিয়াসের রাজনীতি
মহাবীর আলেকজান্ডার ৩৫৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ২০ জুলাই গ্রিসের উত্তর-পূর্ব প্রদেশ মেসিডোনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সফলতার পেছনে মা অলিম্পিয়াসের অবদান ছিল সীমাহীন। কাগজে-কলমে আলেক্সান্ডারের বাবা বহু স্ত্রীর অধিকারী রাজা ফিলিপ হলেও অলিম্পিয়াস তা কখনোই স্বীকার করেননি। বছরের পর বছর পুত্র আলেকজান্ডারকে তিনি বুঝিয়েছেন যে, সে দেবতা জিউসের সন্তান।
যুদ্ধে এক চোখ হারিয়ে ফেলা আলেকজান্ডারের পিতা রাজা ফিলিপের স্বপ্ন ছিল একদিন গ্রিস, মেসিডোনিয়ার সীমান্ত পার হয়ে পারস্য জয় করবেন। কিন্তু, কে হবে ফিলিপের উত্তরসূরি আর এত বড় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী?
উচ্চাভিলাষী মা অলিম্পিয়াস সব সময় সুযোগে থেকেছেন কী করে অন্য আর সব উত্তরাধিকারীকে নিশ্চিহ্ন করে ছেলে আলেকজান্ডারকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় ৩৩৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, মাত্র বিশ বছর বয়সে পিতার অপমৃত্যুর মধ্য দিয়ে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন সম্রাট আলেকজান্ডার। মেসিডোনিয়ান অন্যসব রাজ্যের যুবরাজসহ সিংহাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য সব ব্যক্তি, যারা ভবিষ্যতে সিংহাসনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাদের সবাইকে খুন করানোর মধ্য দিয়ে আলেকজান্ডার তার রাজ্য পরিচালনা শুরু করেন। ওদিকে, মা অলিম্পিয়াস আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন ফিলিপের অন্য স্ত্রী এবং তার শিশুসন্তানকে, যার কারণে আলেকজান্ডার মায়ের ওপর ক্ষিপ্তও হন।
ফিলিপের মৃত্যুর পর অলিম্পিয়াস আলেকজান্ডারের শাসনকে কণ্টকমুক্ত করতে ক্লিওপাত্রা ইউরিদিকের দুই সন্তান ইউরোপা ও কারানোসকে হত্যা করান। যার ফলে ক্লিওপাত্রা ইউরিদিকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। আলেকজান্ডারের সামরিক অভিযানের সময় অলিম্পিয়াস মেসিডোনিয়ায় রাজনৈতিকভাবে গুরত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
আলেকজান্ডার তার বাবার স্বপ্ন সফল করেছিলেন এবং সাম্রাজ্য প্রসারিত করেছিলেন। অলিম্পিয়াস তার সন্তানকে রাজনীতি ও জনগণ সম্পর্কে উপদেশ দিয়েছিলেন। তবে আলেক্সান্ডারের সামরিক অভিযানগুলোতে অলিম্পিয়াস তার পাশে ছিলেন না। কিন্তু তার ধারণা ছিলÑ যদি তিনি সঙ্গে থাকতেন তাহলে তার প্রার্থনা ৩২ বছর বয়সী আলেকজান্ডারকে ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারত।
পুত্র হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছিলেন মাদার লু
প্রায় ২০০০ বছর আগে চীনে, জিন রাজবংশের সময়, মাদার লু-এর পুত্র একজন জেলা কর্মকর্তা ছিলেন। একটি ছোটখাটো অপরাধে তাকে অভিযুক্ত করে তার মৃত্যুদ- কার্যকর করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। শোকে কাতর মাদার লু পুত্র হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুধু তাই নয়, এই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নিজের সব সম্পদ খরচ করে তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন। দরিদ্র কৃষকদের নিয়ে গড়া মাদার লু-এর এই বাহিনীটি চীনের জাতীয় আন্দোলনকে জোরদার করেছিল। চীনজুড়ে সংগঠিত হয় কৃষক বিদ্রোহ। মাদার লু-এর নেতৃত্বে বিদ্রোহী কৃষকরা সেই ম্যাজিস্ট্রেটের শিরñেদ করে।
প্রতিশোধ নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মারা যান মাদার লু। তবে বিদ্রোহীদের একটি অংশ জিন রাজবংশের বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল। কৃষকদের এই উত্থানকে ‘রেড আইব্রো’ বিদ্রোহ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। কারণ এই যোদ্ধাদের ললাটে দানবদের মতো দেখতে লাল লাল ভ্রƒ আঁকা থাকত।
কন্যাকে বৈধ করতে অ্যান বোলিনের মিশন
রানী প্রথম এলিজাবেথের নানা স্যার থমাস বোলিন ছিলেন লন্ডনের রাজসভাসদ এবং কূটনীতিক। তিনি তার মেয়ে অ্যান’কে ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এগিয়ে দিয়েছিলেন। অ্যান প্রাথমিকভাবে সফল হলেও রাজার দৃষ্টি ঘুরে যায় অ্যানের বড় বোন মেরির দিকে। হেনরি ছিলেন সুদর্শন এবং নারীঘেঁষা এক রাজা। তার স্ত্রী ক্যাথেরিন একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় হেনরি তার উত্তরসূরি পুত্রসন্তানের জন্য একের পর এক নারীর দিকে ঝুঁকছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত মেরিকে উপপতœী হিসেবে গ্রহণ করেন রাজা। তাই অ্যানের প্রতিহিংসার কারণ হন তার বোন মেরি। এদিকে, মেরি অন্তঃসত্ত্বা হলে রাজা আবারও অ্যানের দ্বারস্থ হন। কিন্তু অ্যান তখন অন্য নারী, পুরুষকে কীভাবে আকর্ষণ করতে হয় তা তিনি ভালো করেই শিখে গেছেন। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার শোধ যেন এবার তিনি পুরোপুরি তুলতে চান। রাজাও ডুবে যান অ্যানের প্রেমে। অ্যান বারবার তাকে ফিরিয়ে দেন, কারণ তিনি তার বোনকে পছন্দ করেছিলেন এই বলে। ব্যর্থ হয়ে রাজা উন্মত্ত হয়ে যান, অ্যান যা বলবেন তাতেই তিনি তখন রাজি। অ্যান তখন রাজাকে তার প্রথম স্ত্রী ক্যাথেরিনকে ত্যাগ করার শর্ত দেন। কারণ তিনি চান না তাদের বাচ্চা হলে রাজস্বীকৃতি না থাকুক। রাজাও তাই করেন। অ্যান এবং রাজা হেনরি গোপনে চার্চে বিয়ে করলেও পরে তাকে রানীর মুকুট পরিয়ে দেন।
অ্যান-এর প্রথম সন্তান কন্যা হওয়ার পর রাজা হেনরি আবার তার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন। এই কন্যাসন্তানই ছিলেন রানী প্রথম এলিজাবেথ। এরপর অ্যানের পরপর দুবার মিসক্যারেজ হয়। সেগুলো পুত্রসন্তান হওয়ায় রাজা হেনরি নিজেকে অভিশপ্ত ভাবতে শুরু করেন এবং অ্যানের সংস্পর্শ থেকেও সরে আসতে থাকেন। এবার অ্যানের পরিচারিকা জেন সিমোর এর দিকে আকৃষ্ট হন তিনি। অ্যান পাগলের মতো রাজাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু অ্যানের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ এনে তাকে শিরñেদ করা হয়। অ্যান হচ্ছেন প্রথম রানী যাকে সকলের সামনে শিরñদ করা হয়।
ইতিহাসে অ্যানকে নিয়ে নানা তর্কবিতর্ক রয়েছে। বেশিরভাগ মানুষের চোখে তার চরিত্রটি ছিল নেতিবাচক। তিনি তার বোনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, প্রথম রানী ক্যাথরিনকে ডিভোর্স করাতে বাধ্য করেছেন। তবে ভিন্নমত পোষণ করে অনেকে বলেন, অ্যান প্রচ- ব্যক্তিত্ববান একজন নারী, যিনি নিজের সন্তানের বৈধ
পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে এসব করেছিলেন। তার মেয়ে প্রথম এলিজাবেথই ১৫৫৮ সালে ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার দখল করেছিলেন।

পুত্রকে ফিরে পেতে সোজার্নার ট্রুথের লড়াই
নিউ ইয়র্কে ক্রীতদাস থাকার সময় সোজার্নার ট্রুথ এক পুত্রের জন্ম দেন। ১৮২৬ সালে ট্রুথ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু তার ছেলেকে মুক্তি না দেওয়ায় এক সংগ্রামী নারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন এই নারী। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে নিউ ইয়র্কে ১৭৯৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারী মানুষকে মুক্ত হওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ করার প্রয়োজন হতো। ট্রুথ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন যখন জানতে পারলেন, তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে পিটারকে আলাবামা প্লান্টেশনে পাঠানো হয়েছে। এভাবে তার ছেলেকে বিক্রি করে দেওয়া নিউ ইয়র্কের আইন অবৈধ ছিল। কারণ, আইন অনুযায়ী অন্য রাজ্যে কোনো ক্রীতদাস বিক্রি করা যাবে না।
ঝুঁকি সত্ত্বেও ট্রুথ জোর গলায় প্রতিবাদ জানালেন এবং তার সন্তানকে ফেরত চাইলেন। এজন্য তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং তার আইনজীবীর জন্য অর্থ সংগ্রহে প্রচারণা শুরু করেন। পিটারকে বিক্রি করে দেওয়া দাস মালিকটি ভেবেছিলেন, তিনি পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু ট্রুথের পদক্ষেপ তার ছেলেকে নিউ ইয়র্কে ফিরিয়ে আনতে ওই বিক্রেতাকে বাধ্য করে। ১৮২৮ সালের বসন্তে ছোট্ট পিটার তার মায়ের কাছে ফিরে আসে। আলাবামায় থাকার সময় তাকে মারধর, লাথি থেকে শুরু করে নানা অত্যাচার করা হয়। মায়ের লড়াই তাকে এই ধরনের অত্যাচারের হাত থেকে চিরদিনের জন্য বাঁচিয়ে দেয়।
কন্যাকে খুঁজে বের করেছিলেন ক্লারা ব্রাউন
ক্লারা ব্রাউন কোনো আইনি সহযোগিতা পাননি যখন তার সন্তান রিচার্ড, মার্গারেট এবং এলিজা জেন-কে ১৮৩৫ সালে কেন্টাকিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ক্রীতদাস থাকা অবস্থায়ই ব্রাউন তার কন্যা মার্গারেটের মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন। আর তার পুত্র রিচার্ডকে এতবার বিক্রি করা হয়েছিল যে, তার কোনো খোঁজই ছিল না। ১৮৫৭ সালে ব্রাউন মুক্তিলাভ করার পর তার অপর কন্যা এলিজা জেনেরও কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না। যদি এক বছরের মধ্যে তিনি রাজ্য ছেড়ে না যেতেন তবে আরও একবার দাসত্ব বরণের ঝুঁকি ছিল তার। তাই তিনি পশ্চিমে চলে যান এবং কলোরাডোতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
১৮৬৫ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এলিজার সন্ধানে আবারও কেন্টাকিতে ফিরে যান ব্রাউন। কন্যার খোঁজ পেতে তিনি মন্ত্রী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতা চান। কিন্তু তারপরও জেনের খোঁজ মিলছিল না। তবে, কন্যাকে ফিরে পেতে এই হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যে ব্রাউন একা ছিলেন না। সেই সময় অনেক প্রাক্তন দাস যারা বছরের পর বছর ধরে এমনকি কয়েক দশক ধরে পৃথক হয়ে গিয়েছিল তারা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন, গির্জা এবং চিঠির সাহায্যে একে অপরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিল। এলিজার কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কলোরাডোতে ফিরে যান ব্রাউন। কিন্তু কন্যার জন্য তার ভালোবাসা মনের মধ্যে রয়ে যায়। তাই নানা উপায়ে মেয়ের সন্ধান তিনি করেই যাচ্ছিলেন। অবশেষে ১৮৮২ সালে তিনি এলিজা জেনকে আইওয়াতে আবিষ্কার করেন। ইতিহাসে উল্লেখ আছে তাদের এই পুনর্মিলনের গল্প।
সন্তানকে দূরে থাকতে দেননি রানী ভিক্টোরিয়া
রানী ভিক্টোরিয়ার ছিল চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। ১৮৪০ এবং ১৮৫৭ এর মধ্যে এই সন্তানদের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। মাত্র ১৭ বছরের মধ্যে নয়টি সন্তান জন্ম দেওয়া একটি অসাধারণ শারীরিক কৃতিত্বও বটে। আর এই কাজটি তিনি করেছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সামলিয়ে।
রানী ভিক্টোরিয়া যেমন দেশ শাসন করতেন, তেমনি সামলাতেন তার সন্তানদেরও। সন্তানদের মধ্যে সবার ছোট ছিল প্রিন্সেস বিয়েট্রিস। রানী তাকে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছিলেন এবং তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।
বিধবা ভিক্টোরিয়া কখনো চাননি যে, বিয়েট্রিস তাকে ছেড়ে দূরে চলে যাক। কিন্তু রাজকুমারী প্রেমে পড়েছিলেন এবং ব্যাটেনবার্গের প্রিন্স হেনরিকে বিয়ে করার জন্য মায়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। মেয়ের এমন আবদারে খুশি কতে পারেননি ভিক্টোরিয়া। কয়েক মাস তিনি মেয়ের সঙ্গে নীরব ছিলেন। যদিও ১৮৮৫ সালে শেষ পর্যন্ত মেয়েকে তিনি বিয়ে করার অনুমতি দেন। তবে তিনি বিয়ের পর ওই নবদম্পতিকে তার সঙ্গে বসবাসের শর্ত দেন। এই শর্তে রাজি হয় বিয়েট্রিস। সবকিছুর পরও যদি আপনার মা একজন রানী এবং সার্বভৌমের অধিকারী হন তবে তাকে ‘না’ বলা কঠিন। বিয়েট্রিস এবং হেনরি রানী ভিক্টোরিয়ার প্রাসাদেই বসবাস শুরু করেন। সন্তানকে কাছে রাখার এই অনুভূতি মায়েরাই ভালো জানেন।
সন্তান বাৎসল্যে কিংবদন্তি মারিয়া ভন ট্রাপ
অস্ট্রিয়ার এক মঠে নান হতে এসেছিলেন স্বপ্নবাজ তরুণী মারিয়া। সেই বয়সে গান গেয়ে গেয়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতেন। তাই নান হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার জন্য তাকে পাঠানো হয় বিপতœীক ক্যাপ্টেন জর্জ ভন ট্র্যাপের সাত সন্তানকে দেখাশোনার জন্য। নতুন দায়িত্ব নিয়ে মারিয়া বুঝতে পারেন, ক্যাপ্টেন ও তার সন্তানদের জীবন এতটাই শৃঙ্খলিত যে, সেখানে ভালোবাসার কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই জর্জের সন্তানদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে মারিয়ার। তিনি তাদের সঙ্গে গান গাওয়া উপভোগ করতেন এবং বাইরে ঘুরতে যেতেন। এই সময় জর্জ ভন ট্র্যাপ প্রেমে পড়েন মারিয়ার এবং তাকে তার সঙ্গে থাকতে এবং তার সন্তানদের দ্বিতীয় মা হওয়ার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবের প্রসঙ্গে মারিয়া তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘যদি তিনি আমাকে শুধুমাত্র বিয়ে করার প্রস্তাব দিতেন তবে আমি রাজি হতাম না।’ মারিয়া এবং জর্জ ভন ট্র্যাপ ১৯২৭ সালে বিয়ে করেন। কিন্তু একসময় অস্ট্রিয়া দখল করে নেয় হিটলারের নাৎসি বাহিনী। তারা ভন ট্র্যাপের বাড়িও দখল করে নেয় এবং হিটলারের আদেশে জর্জকে কাজ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু জর্জ তা অস্বীকার করে এবং ১৯৩৮ সালে সপরিবারে অস্ট্রিয়া ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা। জর্জের নয় সন্তানকে
লালন-পালন ছাড়াও আরও দুই সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন মারিয়া।
১৯৪০ সালের প্রথম দিকে পরিবারটি আমেরিকার ভারমন্টে একটি খামার কিনে বসতি স্থাপন করেছিল। ১৯৪৭ সালে জর্জ মারা যায়। ১৯৮৭ সালে হার্ট অ্যাটাক করেন মারিয়া এবং অস্ত্রোপচারের তিনদিন পর মারা যান। তাকে তার স্বামীর সঙ্গে লজের পারিবারিক কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়। মারিয়া তার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সন্তানদের জন্য। তার সন্তান বাৎসল্যের কাহিনী নিয়ে তৈরি হয় বিখ্যাত মঞ্চনাটক ‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’। পরবর্তী সময়ে যা সিনেমায়ও রূপ দেওয়া হয়।
