দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে হবে

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ০২:২৭ এএম

পাশর্^বর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশকে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেই আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত দরকার। বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুই অংকে উন্নীত হওয়া সহজ হবে। গতকাল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংক আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। পিআরআই কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। উদ্বোধনী পর্বে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিশ^ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ডানডান চেন ও পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়দি সাত্তার।

সালমান এফ রহমান বলেন, উন্নত দেশ হওয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্যই প্রধান বিষয়। বাণিজ্য বাড়ানো ছাড়া উন্নত দেশ হওয়া যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের কাঠামোতে সমস্যা রয়েছে। তৈরি পোশাকই দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এখন পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ করতে হবে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে অন্যান্য রপ্তানি খাতে তৈরি পোশাক খাতের মতো সুবিধা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এজন্য বিভিন্নভাবে পাশর্^বর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়াতে চেষ্টা চলছে। রেল-নৌপথে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যকার সংযোগ উদ্যোগ সৃষ্টিতে সরকার অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে বিশ^ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার লিড ইকোনমিস্ট সঞ্জয় কাঠুরিয়া বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য তিনগুণ বাড়ানোর সুযোগ আছে।  ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাতে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়লে রপ্তানিও বাড়বে। এতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বড় হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যপণ্যের বড় আমদানিকারক দেশ। আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বাড়লে আমদানি খরচ কমবে। আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বিদেশ বিনিয়োগ নীতিমালা আরও সহজ করা দরকার। এতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা কমবে। এতে ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট থেকে আয় বাড়বে। এজন্য প্রতিবেশী প্রথম নীতি নিতে হবে।

বিশ^ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ডানডান চেন বলেন, বাংলাদেশ অনেক ভালো করেছে।  তবে সামনে চ্যালেঞ্জও অনেক। এজন্য আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোতে নজর দেওয়া দরকার।

পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়দি সাত্তার বলেন, আশিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সাফটার তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য অনেক কম। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও যোগাযোগের ঘাটতির কারণে এ অবস্থা। কিন্তু এ অঞ্চলে বাজার বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, এ অঞ্চলে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক উদ্যোগ সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট বাড়াতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ফারুক সোবহান, অর্থনীতিবিদ সাজ্জাদ জহির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ‘বাংলাদেশের বাণিজ্য : সামনে এগোনোর উপায়’ বিষয়ে সেমিনারের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এ পর্বে এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত