ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী বাসযাত্রী নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে তিনজনে মিলে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এ কথা বলেন।
ডিআইজি মামুন গতকাল দিনভর কটিয়াদী ও বাজিতপুর থানার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। তিনি মামলার বাদী, সাক্ষী, পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি। ডিআইজি মামুন বলেন, নার্স তানিয়াকে দল বেঁধে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু (৩৯) শনিবার রাতে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আল মামুনের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি নিজেসহ তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছেন।
গত সোমবার ঢাকা থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে করে কটিয়াদীতে বাড়ি ফিরছিলেন ২৩ বছর বয়সী ওই নার্স। রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে জামতলী এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের পাশ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বাসচালক নূরু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, ঘটনার দিন বিকেলে তানিয়া বাসে ওঠার পর থেকেই তাকে অনুসরণ করছিলেন তিনি। পথে যাত্রীরা নেমে গেলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে এসে হেলপার লালনকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন। কটিয়াদী থেকে বাসটি ছাড়ার পর এক যাত্রী নেমে গেলে গজারিয়া এলাকায় ফরিদ মিয়ার কলাবাগানের পাশে তিনি ও তার সহযোগীরা বাসের দরজা-জানালা লাগিয়ে দেন। পরে দুজনের সহায়তায় বাসের মাঝখানে ধর্ষণ করতে গেলে তানিয়া কিল-ঘুষি মারেন। এ সময় মেয়েটিকে নিবৃত্ত করার জন্য তার মাথায় বাসের মেঝের পাটাতনে দুই-তিনটি আঘাত করেন। এতে তানিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়লে প্রথমে তিনি নিজে এবং পরে হেলপার লালন ও তার খালাত ভাই বোরহান তাকে ধর্ষণ করে।
জবানবন্দিতে নূরু আরও জানান, পরে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার পর সড়ক দুর্ঘটনায় তানিয়া মারা গেছেন বলে প্রচার চালায় তারা। পথচারীরা মেয়েটিকে প্রথমে স্থানীয় সততা ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে চালক ও তার সহযোগীরা কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তানিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তারা পালিয়ে যায়।
তানিয়ার বড় ভাই শহীদুল ইসলাম সুজন দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, পুলিশ তানিয়ার কাছে থাকা ব্যাগ, জামাকাপড়, টিভি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলেও গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারেনি।
এদিকে তানিয়ার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণধর্ষণ ও শক্ত বস্তুর আঘাতে মাথার পেছনের খুলি দ্বিখণ্ডিত হয়ে রক্তক্ষরণে তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
