অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে ২০০ কোটি টাকা লোপাট!

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ০৪:০১ এএম

রেক্স আইটি ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে প্রতারণার মাধ্যমে ২০০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আবদুস সালাম পলাশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ নিয়ে গতকাল রবিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। এতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অরগানাইজড ক্রাইম) মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, এই ডিজিটাল প্রতারণার শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার গোপনে খবর নিয়ে তথ্যের সত্যতা পায়। প্রতারণার শিকার একজন ভিকটিম গত ১০ মে পলাশের বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় প্রতারণা, ডিজিটাল প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে সিআইডির একটি টিম শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার ফ্ল্যাট ও পরে রেক্স আইটির ধানমণ্ডির অফিস থেকে একটি টয়োটা সেলুন কার, নগদ ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা ও কিছু বিদেশি মুদ্রা, বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ, কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও বিপুল পরিমাণ ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার গোপন সূত্রে জানতে পারে যে রেক্স আইটি ইনস্টিটিউটের মালিক মো. আবদুস সালাম পলাশ আউটসোর্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এসইও, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এ প্রতিষ্ঠানের পেইড মার্কেটিংয়ের প্রচার চালাত। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এ প্রতিষ্ঠানে পেইড মার্কেটিংয়ে বিনিয়োগ করলে ৫০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্নের অবিশ্বাস্য অফার দেওয়া হতো, যা বাস্তবে পুরোপুরি অসম্ভব। তার প্রতিষ্ঠানের পাঁচ সহস্রাধিক প্রশিক্ষণার্থীকে ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি এ ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণার্থীরাও মনে করত যেকোনো আউটসোর্সিং কাজের থেকে এ কাজে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি লাভ পাওয়া যাবে। তাই তাদের একটি বিশাল অংশ লাভের আশায় বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করে এখানে বিনিয়োগ করে। এর বাইরেও এ ক্যাম্পেইনের কথা ছড়িয়ে দেওয়া হলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় এ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে। এভাবে পলাশ প্রতারণার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত