গুছিয়ে উঠছে বোলিং

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ০২:১৮ এএম

ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে বাংলাদেশের বোলিং নিয়েই যত ভয়। কিন্তু বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে বাংলাদেশের বোলিং জমাট বাঁধার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গতকাল ডাবলিনের মালাহাইডে তো মাশরাফী-মোস্তাফিজ-সাকিবদের কোয়ালিটি বোলিংয়ের বিপক্ষে রীতিমতো যুঝতে হলো ক্যারিবিয়ানদের। শুরুর চাপ দ্রুত কাটিয়ে উঠে পাল্টা আক্রমণে গেলেন বাংলাদেশি বোলাররা। তারপর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের রানের চাকা ধীর করে দিলেন। আর তাই ১০৩ বলের মধ্যে একটা বাউন্ডারির দেখাও পেল না উইন্ডিজ। এরপর শেষ ১০ ওভারে যখন মারমুখী হওয়ার কথা প্রতিপক্ষের তখন বাংলাদেশ ৬৭ রান খরচায় তুলে নিল ৫ উইকেট। তাতে এই ত্রিদেশীয় সিরিজে আগের দেখার মতো এই দেখায়ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহটা নিজেদের নাগালের মধ্যে রাখতে পারে বাংলাদেশ।

উইন্ডিজকে ৯ উইকেটে ২৪৭ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। এরপর ব্যাটসম্যানরা ৫ উইকেটের জয় এনে দেয় তাদের। ৪৭.২ ওভারে এসেছে জয়। এই জয়ে বাংলাদেশ উঠে গেল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে। ক্যারিবিয়ানরা আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ১৭ মে এই আসরের ফাইনালে বাংলাদেশ-উইন্ডিজের আরেকটি লড়াই হবে। প্রসঙ্গত, চলমান সিরিজে প্রথম দেখাতে ক্যারিবিয়ানদের ৪ উইকেটে হারিয়েছিল মাশরাফীর দল।

‘দ্য ফিজ’ নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করেছেন। ইনিংসের সফলতম বোলার তিনি ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। ২০১৭ সালের পর এই আবার টানা চার ম্যাচে ২ বা তার বেশি উইকেট নিলেন। তার মধ্যে সেরাটা সোমবার উইন্ডিজের বিপক্ষে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ উইকেট নিলেন মাশরাফী; খরচ হয়েছে ৬০ রান। সাকিব আল হাসান কিপ্টেমিতে সবার আগে। ১০ ওভারে মোটে ২৭ রান! মেহেদী হাসান মিরাজকে ক্যারিবিয়ান বোলাররা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। তার ফিগার ১০-০-৪১-১। এই ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে অভিষেক হলো আবু জায়েদ রাহীর। তার জায়গায় বিশ্বকাপের সেরা ১৫-তে তাসকিন আহমেদকে নেওয়ার কথা চলছে। ৯-০-৫৬-০ এর পারফরম্যান্সে রাহীর হতাশ হওয়ারই কথা।

শেই হোপ জীবনের সেরা ফর্মেই আছেন। অবশ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচে সেঞ্চুরি হলো না। তিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। এদিনও সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষে ৮৭ রানে থেমেছেন ওপেনার। তার সঙ্গে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ার সুনিল অ্যামব্রিসের শুরুটা ভালো ছিল। যদিও মাশরাফী ম্যাচের প্রথম আঘাত হেনে অ্যামব্রিসকে (২৩) ফিরিয়েছেন। সিøপে ডানে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নিলেন সৌম্য সরকার। ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৫৫। দশম ওভারে ড্যারেন ব্রাভোর (৬) ক্যাচ ফেলেছেন মিরাজ। পরের ওভারে তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে প্রায়শ্চিত্ত করেন তিনি।

১২.২ ওভারে মিরাজের বলে কোনোমতে একটা বাউন্ডারি পেলেন রোস্টন চেজ (১৯)। তখন স্কোরটা ২ উইকেটে ৬৯। মিরাজের বল খেলতে আগের ম্যাচেও সমস্যা হয়েছে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের। বোলিংয়ের মৌলিক জায়গা ধরে রেখে নির্দিষ্ট স্থানে বল করে চলেন মিরাজ। রাহী উইকেট টু উইকেটে বল করে যান। সামান্য মুভমেন্টও পান। ১৮তম ওভারে কাটার মাস্টার ফিজ আসেন এবং নিখুঁত লাইনে বল করে চলেন। ব্যাটসম্যানভেদে বল বেশ বের করে নেন, আবার ভেতরে ঢোকান। সুচতুর ফিজ ফর্মে ফিরতে থাকেন। সাকিব এলে আরও দিশেহারা ব্যাটসম্যানরা। তার বলের দিশা পাওয়া ভার ব্যাটসম্যানদের জন্য। তাদের নিয়ে খেলেন সাকিব।

চাপে পড়া ক্যারিবিয়ানরা সতর্ক থাকলেও ফিজের কারণে চেজ (১৯) ও জোনাথন কার্টারকে (৩) হারায়। হোপ তবু ফিফটি করেন। আশা ধরে রাখেন দলের। অধিনায়ক জেসন হোল্ডার এসে আগ্রাসী হতে চেয়েছেন। কিন্তু ততক্ষণে রানরেট কমেছে। সৌম্যকে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকান হোল্ডার। ত্রয়োদশ ওভারে শেষ বাউন্ডারির দেখা পাওয়া ক্যারিবিয়ানরা ফের চারের সন্ধান পায় ৩০তম ওভারে গিয়ে!

হোল্ডার-হোপ পঞ্চম উইকেটে ঠিক ১০০ রানের জুটি গড়েন। ৪২তম ওভার থেকে ফের শিকার শুরু বাংলাদেশের। হোপকে ফেরানোর পরের ওভারে মাশরাফী তুলে নেন প্রতিপক্ষ নেতা বিপজ্জনক হয়ে ওঠা হোল্ডারকেও (৬২)। সাকিবের একমাত্র শিকার ফ্যাবিয়ান অ্যালেন (৭)। ফিজের স্লোয়ার ভোগাচ্ছিল ক্যারিবিয়ানদের। শেষে আরও দুই উইকেট তার।

আর সব মিলে বাংলাদেশি বোলারদের জন্য সম্মিলিত পারফরম্যান্সের দারুণ এক উদাহরণ এই ইনিংস। বিশ্বকাপ শুরুর আগে বোলিং বিভাগকে জমাট বাঁধিয়ে নিতে এমনটাই তো চায় বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত