আগের ম্যাচের মতো ক্লিনিক্যাল পারফরম্যান্স হয়নি। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে দ্বিতীয় দেখায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে বাংলাদেশের তেমন কষ্টও হয়নি। গতকাল ডাবলিনের মালাহাইডে ১৬ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট জিতেছে তারা। উঠে গেছে ১৭ মের ফাইনালে। শিরোপার লড়াইটা হবে ক্যারিবিয়ানদের সঙ্গেই। আর বাদ পড়ে যাওয়া স্বাগতিকদের সঙ্গে আগামীকালের আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচটিতে বাংলাদেশ পাচ্ছে একাদশে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে উইন্ডিজকে ৯ উইকেটে ২৪৭ রানে আটকে দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর ব্যাটিংয়ে দু-চারটা ধাক্কা কাটিয়ে ঠিকই ১৬ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে ২৪৮ রান তুলেছে। সৌম্য সরকার (৫৪) টানা দ্বিতীয় ফিফটি করেছেন। জয়ের কাছে গিয়ে ৭৩ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৪ রান নিয়ে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। তামিম ইকবাল (২১), সাকিব আল হাসানরা (২৯) অবদান রেখে গেছেন। মোহাম্মদ মিঠুন জুটি গড়ার পাশাপাশি ৪৩ রান করেছেন নিজের জন্য। আর মাহমুদউল্লাহ প্রথমবারের মতো সিরিজে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ৩৪ বলে ৩০ রানে অপরাজিত।
আগের ম্যাচে শতরান ছাড়ানো জুটি গড়া তামিম-সৌম্য এবারও চমৎকার শুরু করলেন। কিন্তু টানা ১০ ওভার বল করে ৩ উইকেট শিকার করে যাওয়া অফ স্পিনার অ্যাশলি নার্সের প্রথম শিকার হন তামিম। উইকেটে নেমে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড তামিম। ৫৪ রানের জুটি ভাঙে।
সাকিবের সঙ্গে এরপর ৫২ রানের জুটি হয় সৌম্যর। ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি করেন ওপেনার। কিন্তু নার্সের এক ওভারেই এই দুজন সস্তা আউট হয়ে ফেরেন। মুশফিক-মিঠুনের দারুণ দামি ৮৩ রানের জুটি। কিন্তু শুরুতে মিঠুন রান আউট থেকে বেঁচেছেন। হোল্ডার পরে বোল্ড করেছেন তাকে।
মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর দায়িত্ব ছিল আর বিপদ না ডেকে বাকি ৫৮ রান করার। মুশফিক ক্যারিয়ারের ৩৩তম ফিফটিকে আরেকটু বাড়িয়ে কেমার রোচের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট। জুটিটা ৫০ রানের। আর ৮ রান লাগে জিততে। শেলডন কটরেলের ওয়াইডের মধ্য দিয়ে নটে গাছটি মুড়াল। তখন ৪৭.২ ওভার।
ব্যাটিং উইকেটে ব্যাটসম্যানদের চাপমুক্ত থেকে জয় এনে দেওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন বোলাররা। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা (১০-০-৬০-৩) সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ব্রুক থ্রু এনে দিয়েছেন শুরুতে। ডেথ ওভারের সময় জোড়া উইকেট শিকার করে দুই সেট ব্যাটসম্যানকে বিদায় করেছেন। মাঝে আঘাত হেনেছেন মোস্তাফিজুর রহমান (৯-১-৪৩-৪)। শেষেও ফিজ দুর্দান্ত। ম্যাচের সেরা উইকেটশিকারি। ম্যান অব দ্য ম্যাচও। সাকিব আল হাসান (১০-১-২৭-১) সবচেয়ে কিপটে বোলার। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে থাকা তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজেরও (১০-০-৪১-১) সঙ্গে সাকিবের জুটিটা জমছে। কেবল সাইফউদ্দিনের চোটে ওয়ানডে অভিষিক্ত আবু জায়েদ রাহী উইকেট পাননি। বোলিং বিশ্লেষণ ৯-০-৫৬-০ ।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শেই হোপে ভর করেই পথ চলেছে ক্যারিবিয়ানরা। ম্যাচ সর্বোচ্চ ৮৭ তার। অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের ৬২। শুরুতে হুমকি হয়ে ওঠা সুনীল অ্যামব্রিসকে (২৩) ষষ্ঠ ওভারে শিকার করেছেন মাশরাফী। এরপর ড্যারেন ব্রাভো (৬) হয়েছেন মিরাজের শিকার।
৫৬ রানে ২ উইকেট হারানো ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংকে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশের বোলিং। ত্রয়োদশ থেকে ৩০তম ওভার পর্যন্ত ১০৩ বলের মধ্যে কোনো বাউন্ডারি দেননি তারা। পঞ্চম উইকেটে ঠিক ১০০ রানের জুটি গড়ে হোপ আর হোল্ডার শেষটা রাঙানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ৪১ ও ৪৩ ওভারে ওই দুই ব্যাটসম্যানকেই তুলে নেন মাশরাফী। ফ্যাবিয়েন অ্যালেনকে (৭) সাকিব শিকার করার পর ৪৯তম ওভারে জোড়া উইকেট পান ফিজ। এই কন্ডিশনে যে ফিজকে নিয়ে ভয় ছিল সেই তার বোলিং ফিগার চোখকাড়া। ৯-১-৪৩-৪ ।
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের বোলিং গুছিয়ে উঠছে। ওদিকে শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং প্র্যাকটিসও হচ্ছে চমৎকার। বাংলাদেশের সবকিছু বেশ আদর্শ চেহারা নিয়েই এগোচ্ছে বটে।
