মেয়েদের গ্রামে পুরুষ শুধু দিনে

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া। সরকারবিরোধী গোষ্ঠী আর সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। হত্যা, খুন আর ধ্বংসের মাঝেই দেশটির উত্তরাঞ্চলে কুর্দি নারীরা নিজেদের জন্য জিনওয়ার ‘নারীদের জায়গা’ নামে একটি গ্রাম তৈরি করেছেন। এই গ্রামে রাতের আঁধারে যেকোনো পুরুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। যদি কোনো পুরুষকে প্রয়োজনে ঢুকতে হয়, তাহলে তাকে দিনের আলোয় ঢুকতে হবে।

দুই বছর আগে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় এই গ্রাম তৈরি করেন কুর্দি নারীরা। এই গ্রামে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে নির্যাতিত নারী-শিশুরা এসে বসতি গাড়তে পারবেন। এমনকি এখানে নেই ধর্ম-জাত-পাতের বালাই। ইতোমধ্যেই কট্টর পরিবার, পারিবারিক কলহ বা বিবাদ আর গৃহযুদ্ধের বীভৎসতা পেরিয়ে এ গ্রামে ঠাঁই নিয়েছেন অনেক নারী।

তেমনই এক নারী ফাতেমা আমিন, আইএসের সঙ্গে যুদ্ধে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি তার বাচ্চাদের নিয়ে ঠাঁই নিয়েছিলেন এই জিনওয়ারে। অনেক লড়াই থেকে ঘুরেফিরে ‘জিনওয়ারে’ এসে পৌঁছান সিরিয়ার ফাতেমা। সিএনএনকে ফাতেমা বলছিলেন, সমাজে নারীরা দুর্বল, তারা নিজেদের আর বাচ্চাদের সামলাতে পারেন না, সেসব ব্যক্তির মুখের ওপরে জবাব দিচ্ছে জিনওয়ার। নারীরা নিজের বাড়ি তৈরি করছেন। আমরা একটা গ্রাম তৈরি করেছি, শুধু কুর্দি নারীদের জন্য নয়।

দুই বছর আগে জিনওয়ার শুধু এক খণ্ড জমি ছিল। স্থানীয় কুর্দি নারীরা একজোট হয়ে সেখানে বসতি গড়ার পরিকল্পনা করেন। পাশে দাঁড়ায় আন্তর্জাতিক কিছু সংগঠনও। গড়ে তোলা হয় ৩০টি বাড়ি, একটি বেকারি আর এক দোকান। চাষের জন্যও রয়েছে কিছুটা জমি। শিশুরা বড় হলে তারা এখানেই থাকতে চাইলে থাকবে, নয়তো অন্য কোথাও চলে যাবে।

জিনওয়ারে এখন ১৬ নারী আর ৩২টি শিশুর বাস। পুরুষেরা এখানে আসতে পারেন শুধু দিনের বেলায়। তবে নারীদের সম্মান করা যে পুরুষদের ধাতে নেই, তাদের জন্য জিনওয়ারের দরজা বন্ধ। নারীরাই নজর রাখেন, গ্রামে কে ঢুকছে, কে বেরোচ্ছে। রাতে তাদের সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য থাকে অস্ত্র।

ফাতেমার মতো জিনওয়ার গ্রামে গিয়েছেন জিয়ান আরফিন। ৩০ বছর বয়সী এই নারী দুই মেয়ে আর এক ছেলের মা। তিন মাস আগে জিনওয়ারে এসেছেন জিয়ান। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বের শহর আফরিনে তুরস্কের অভিযান থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসেন তিনি।

আরফিনের দৃষ্টিতে জিনওয়ার অসাধারণ জায়গা। এখানে একটা স্বাভাবিক জীবন রয়েছে।  ভিটেছাড়া, ধর্ষিতা, জেলবন্দি, আইএস বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর নির্যাতন শেষে এমন আরও অনেক মুখ এখন বাঁচার মানে খুঁজে পেয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত