সিলেটের পাঠানটুলার পনিটুলা এলাকায় চিকিৎসক প্রিয়াঙ্কা তালুকদার শান্তাকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। শান্তা চেয়েছিলেন বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরিতে ঢুকবেন। আগামী বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। এজন্য মাস ছয়েক আগে ভর্তি হন স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাইছিলেন না শান্তা বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিক। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন শান্তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা ও ভাই। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, শান্তা আত্মহত্যা করেছেন।
শান্তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তার স্বামী দিবাকর দেব কল্লোল পেশায় স্থপতি। তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শান্তা মেডিকেলে পড়াকালে তার সঙ্গে পরিচয় হয় কল্লোলের। পরিচয় থেকে প্রেম। পরিবারও মেনে নিয়েছিল তাদের সম্পর্ক। পরে শান্তার বাবা ধুমধাম করে বিয়ে দেন পরিবারের বড় মেয়ের। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পর থেকেই সিলেটের বেসরকারি পার্ক
ভিউ মেডিকেল কলেজের প্রভাষক শান্তার ওপরে শুরু হয় নির্যাতন।
শান্তার ছোট ভাই পলাশ তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছয় বছর আগে আমার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই নানা অজুহাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার বোনকে নির্যাতন করে আসছে। এ নিয়ে পারিবারিক বিচার-সালিসও হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোন চেয়েছিল বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে। এজন্য সে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু তার দেবর, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে কোচিং করতে যেতে বাধা দেয়, অত্যাচারও বাড়িয়ে দেয়।। পরে একপর্যায়ে ঘরের শান্তির জন্য কোচিং বন্ধ করে দেয় সে। কিন্তু তার পরও অত্যাচার থামেনি তাদের। আমাকে মাঝেমধ্যে ফোন করে এসব জানাত সে। আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারে না, সে এমন মেয়ে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিসিএস দেওয়ার ইচ্ছাই কাল হলো তার। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শান্তার বাবা সোনালী ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখার কর্মকর্তা ঋষিকেশ তালুকদার বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রচার করছে, কিন্তু আমার মেয়ে আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার মেয়েকে নির্যাতন করত।’
গত রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট নগরীর পশ্চিম পাঠানটুলার পনিটুলা এলাকার পল্লবী সি ব্লকের ২৫ নম্বর বাসা থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় শান্তার (২৯) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা ঋষিকেশ তালুকদার বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ওই দিন দুপুরে শান্তার স্বামী দিবাকর দেব কল্লোল, শ্বশুর সুভাষ চন্দ্র দেব ও শাশুড়ি রতœা রানী দেবকে আটক করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার রাতেই সুনামগঞ্জের ধোপাখালী শ্মশানঘাটে শান্তার শেষকৃত্য করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ওসি হারুনুর রশীদ জানান, শান্তা হত্যা মামলার তিন আসামিকে গতকাল সোমবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শান্তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি হারুনুর রশীদ বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ছাড়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদেও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’
