সুইডেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার পুনঃতদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদীপক্ষের আইনজীবীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্র্তৃপক্ষ। সাত বছর ধরে অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয়ে থাকায় মামলাটি নিয়ে এগোনো যায়নি। কিন্তু গত এপ্রিলে ইকুয়েডর কর্র্তৃপক্ষ লন্ডনে পুলিশ ডেকে অ্যাসাঞ্জকে ধরিয়ে দিলে মামলাটি আবারও আলোচনায় চলে আসে। গ্রেপ্তারের পর তাকে রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো বে কারাগারে। সুইডেনে করা ওই মামলা
প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে ছিল। ২০১০ সালে দুই সুইডিশ নারী ওই মামলা করেছিলেন। ২০১৫ সালে স্ট্যাচু অব লিমিটেশন ধারায় সেটি বাতিল হয়ে যায় এবং ২০১৭ সালে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। সে সময় অবশ্য প্রসিকিউটর বলেছিলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে ওই মামলা আবার শুরু হতে পারে।
যৌন হয়রানির দুই অভিযোগে ২০১০ সালের ২০ আগস্ট সুইডেন অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে একদিনের মাথায় তা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে সে দেশে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে একই বছরের নভেম্বরে আবারও অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরোয়ানা জারি করা হয়।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিনি যুক্তরাজ্যের আদালতে আত্মসমর্পণের ১০ দিনের মাথায় জামিন পান। অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা আদালতে নতুন পরোয়ানাকে অবৈধ দাবি করলেও ২০১২ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যের আদালত একে বৈধ বলে রায় দেয়।
রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য থেকে সুইডেনে বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে আশঙ্কায় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে ২০১২ সালের জুন মাসে ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ফলে জামিন শর্ত ভঙ্গের দায়ে গত ১ মে তাকে ৫০ সপ্তাহের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
