কিংবদিন্ত হলিউড অভিনেত্রী ডরিস ডে আর নেই। গত সোমবার মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। নিজের প্রতিষ্ঠিত ডরিস ডে এনিম্যাল ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে বিবিসিকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে।
বিবিসি জানায়, ডরিস সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার কারমেল ভ্যালিতে তার নিজ বাড়িতে মারা যান। কিছুদিন যাবৎ অসুস্থতায় ভুগছিলেন ডরিস। হয়েছিল নিউমোনিয়া। তবে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ডরিসের স্বাস্থ্য তার বয়সের তুলনায় খুবই ভালো ছিল।
পঞ্চাশ ও ষাট দশকজুড়ে হলিউড ইন্ডাস্ট্রি শাসন করেছেন ডরিস ডে। তার অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা হলো ‘পিলো টক’, ‘দ্যাট টাচ অব মিংক’ ও ‘দ্য ম্যান হু নিউ টু মাচ’।বিশ্বনন্দিত অভিনেত্রী ডরিস ডের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে হলিউড অঙ্গনে।
ডরিসের নিষ্পাপ মুখ, মিষ্টি হাসি আর সুরেলা কণ্ঠস্বরে মোহিত হয়েছেন পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের অসংখ্য দর্শক ও শ্রোতা। ১৯৩৯ সালে বিগ ব্যান্ডের সংগীতশিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। প্রথম রেকর্ডিং করা গান ‘সেন্টিমেন্টাল জার্নি’ ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয় আর তাতেই পান সফলতা। এই গান এক মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়। এরপর আরও বেশকিছু গান করেন ব্যান্ডলিডার লেস ব্রাউনের সঙ্গে।
এরপর আসেন অভিনয়ে। প্রথম সিনেমা ‘রোমান্স অন দ্য হাই সি’ মুক্তি পায় ১৯৪৮ সালে। ১৯৬৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘উইথ সিক্স ইউ গেট এগরোল’ পর্যন্ত টানা ৪০টি সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় করেন ডরিস। অভিনেতা রক হাডসনের সঙ্গে তার জুটি বক্স অফিসে বেশ কয়েকটি হিট সিনেমা উপহার দেয়। ১৯৫৬ সালে মুক্তি পাওয়া আলফ্রেড হিচকক নির্দেশিত ‘দ্য ম্যান হু নিউ টু মাচ’ সিনেমার একটি গান তাকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে দেয়। সোনালি চুলের এই সুন্দরী অভিনয় ও গানের জন্য পেয়েছেন উল্লেখযোগ্য অনেক পুরস্কার।
১৯৬০ সালে ‘পিলো টক’ চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার মনোনয়ন পেলেও এই পুরস্কার পাননি তিনি।
২০০৪ সালে ডরিসকে প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল এবং ২০০৮ সালে গ্র্যামিতে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
