পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার কেনাবেচায় নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আইন ভঙ্গ করে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা ঘোষণা ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। মাঝেমধ্যে এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনলেও এমন প্রবণতা রোধ করতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এমন পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার ব্লক করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। গতকাল এসইসির নিয়তি কমিশন সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সফটওয়্যারের মডিউলে ব্লক করে রাখা হবে। এর ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়া উদ্যোক্তা, পরিচালকদের শেয়ার হস্তান্তর কিংবা বিক্রি করা যাবে না। এসব শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে ঘোষণা দিতে হবে। তালিকাভুক্তির দুই বছর পর থেকে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ফ্যামিলিটেক্সের তিনজন উদ্যোক্তা তাদের পুরো শেয়ার বিক্রি করে আত্মগোপনে চলে গেছেন। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালকদের শেয়ার প্রসপেক্টাস অনুমোদনের তারিখ থেকে তিন বছর লক-ইন (বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা) রয়েছে। আবার তিন বছর পর ওই শেয়ার বিক্রি করতে হলে আগাম ঘোষণা দিতে হয়। তবে ফ্যামিলিটেক্সের উদ্যোক্তা পরিচালকরা এসব শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এ ছাড়া গত বছর ঘোষণা ছাড়া শেয়ার বিক্রি করায় পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের একজন পরিচালককে সম্প্রতি জরিমানা করেছে এসইসি। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা পরিচালকদের ক্ষেত্রেও ঘোষণা ছাড়া সব শেয়ার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে আরো কিছু কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক প্লেসমেন্টধারীও লক-ইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগেই শেয়ার বিক্রি করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এসইসির কাছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতেই এসইসি এখন উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার ব্লক করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসইসি জানিয়েছে, সিডিবিএলের মডিউলের মাধ্যমে ব্লক করা শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট বিও হিসাব (বেনিফিসিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) থেকে স্থানান্তর করা যাবে না। ওই শেয়ার বা ইউনিটহোল্ডাররা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রয়োজনীয় ঘোষণা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর দেওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জ ওই শেয়ারের ব্লক প্রত্যাহার করার পর তা লেনদেন করা যাবে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি হিসেবে কমিশনের নির্দেশে সিডিবিএল এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়েছে।
