কক্সবাজারে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গাসহ তিনজন মারা গেছেন। একই রাতে পাবনা ও যশোরে মারা গেছেন দুজন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
কক্সবাজার : নিহতরা হলেন কক্সবাজার শহরের পাহাড় এলাকার হাজি জহিরের ছেলে সৈয়দুল মোস্তফা ভুলু (৪২), টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর রোহিঙ্গা জামতলির ১৫ নম্বর ক্যাম্পের মৃত রহিম আলীর ছেলে আব্দু সালাম (২৬) ও ২৩ নম্বর ক্যাম্পের আব্দু রহিমের ছেলে আজম উল্লাহ (২০)। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, গত সোমবার রাতে নিজ এলাকা থেকে পুলিশের হাতে আটক হন শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি ভুলু। তাকে নিয়ে গতকাল ভোররাতে শহরের কাটা পাহাড়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় ভুলুর বাহিনীর সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ভুলু গুলিবিদ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ভোররাতে উপজেলার শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে রোহিঙ্গা পাচারকারীদের গোলাগুলি হয়। এক পর্যায়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুই পাচারকারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরদী (পাবনা) : নিহত তিতাস মোল্লা (৩৮) ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাঁশেরবাদা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ মোল্লার ছেলে। পুলিশ বলছে, তিনি অস্ত্র, বিস্ফোরক, ডাকাতি, মোটরসাইকেল চুরি, ছিনতাইসহ ১৭ মামলার আসামি ছিলেন। ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের ঝাউদিয়ার চানমারী গ্রামে একদল অস্ত্রধারী ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। বন্দুকযুদ্ধে আহত তিতাসকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বলেও জানান তিনি।
যশোর : নিহত আবুল কাশেম (৪২) মনিরামপুর উপজেলার শোলাপুর গ্রামের কলিমুদ্দিনের ছেলে। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে মনিরামপুর ও কেশবপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) মুহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদার জানান, রাত পৌনে ৩টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কে সদর উপজেলার নোঙ্গরপুর মাজারসংলগ্ন এলাকায় গাছ ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল ডাকাতরা। এ খবর পেয়ে টহল পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশের গাড়ির আলো দেখে তারা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশও আত্মরক্ষায় তিন রাউন্ড গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। এর আগে আটক করা হয় ১১ জনকে। পরে পাকা রাস্তার পশ্চিম পাশে একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি পিস্তল, তিনটি হাঁসুয়া, ১৫ গজ নাইলনের দড়ি ও পাঁচটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়। আহত ব্যক্তিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি ডাকাত দলের নেতা আবুল কাশেম। তিনি জানান, আটক ডাকাতরা হলোÑ খুলনার ডুমুরিয়ার চাকুন্দিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের শওকত গাজীর ছেলে শাহিনুর (৩৫), চুকনগর দক্ষিণপাড়ার কাদের আলী গাজীর ছেলে শহিদুল গাজী (৩৫), চুকনগর গ্রামের খোকাপদ দাসের ছেলে ধনি রাম দাস (৪০), উত্তর বেতা গ্রামের মোজাহার গাজীর ছেলে আজিবর গাজী (৪৮), চাকুন্দিয়া গ্রামের আনসার আলী শেখের ছেলে বাবর আলী শেখ ওরফে বাবু (৩৬), যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিংহা গ্রামের হারুন বিশ্বাসের ছেলে আসলাম বিশ্বাস (২৯), মনিরামপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের আসলাম হোসেন ওরফে ইমরান (২২) ও মিজানুর রহমান ওরফে মিন্টু (৪০), ইত্তা মাঠপাড়া গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩১), সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শেখ মনির উদ্দিনের ছেলে ওহিদুজ্জামান বাবু (৩২) ও খুলনার পাইকগাছার গোপালপুর গ্রামের সামসুদ্দিন গাজীর ছেলে মিজানুর গাজী (৩৬)।
