ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

পাচারচক্রের হোতা নোয়াখালীর তিন ভাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ০১:১৯ এএম

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির শিকার বাংলাদেশিরা যে মানব পাচার চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন, তার হোতাসহ পাঁচজনের বিষয়ে তথ্য পেয়েছে সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ

সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ পাওয়া তথ্যে তিউনিসিয়ায় অবস্থানরত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন, নোয়াখালীর তিন ভাই এই চক্রের মূল হোতা। এদের সঙ্গে যুক্ত মাদারীপুরের আরও দুইজন। এছাড়া সিলেটের ফ্রড এজেন্সিগুলো যুক্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। সন্দেহভাজন ওই মানব পাচারকারীদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। অতি দ্রুত এদের বিরুদ্ধে করা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় ১ জন বাংলাদেশি নিহত, ৩৯ জন নিখোঁজ ও ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিরা সবাই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আহত ১৪ জনের মধ্যে চার জনের অবস্থা গুরুতর। তারা তিউনিসিয়ার জার্জিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি ১০ জন তিউনিসিয়ার রেডক্রিসেন্ট ক্যাম্পে রয়েছেন।

প্রকাশিত তালিকায় নিখোঁজ ৩৯ জন হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাব্বির হোসেন, সজল, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার জাকির হাওলাদার, আলী আকবর, রাজৈর উপজেলার শাহেদ, নাইম ও নাদিম। শরীয়তপুরের সুমন, মনির, রাজীব ও পারভেজ, কিশোরগঞ্জের জালালউদ্দিন, মাদারীপুরের স্বপন ও সজীব, নরসিংদীর জাহিদ, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আব্দুল আজিজ, আহমদ, লিটন আহমেদ ও আয়াজ আহমেদ বিশ্বনাথ উপজেলার খোকন, মমিন আহমেদ, দিলাল আহমেদ, রোকন আহমেদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলার আবজাল হোসেন, আবুল কাশেম, বিয়ানীবাজার উপজেলার সুজন আহমেদ ও সোয়েব, সিলেট শহরের জিল্লুর রহমান, কামরান আহমেদ মারুফ, ইন্দজিত ও সাজু, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাফিজ শামিম, ফাহাদ আহমেদ ও জুয়েল, সুনামগঞ্জের নাজির আহমেদ ও মৌলানা মাহবুবুর রহমান, নোয়াখালীর আব্দুর রহিম ও নাসির আহমেদ এবং হবিগঞ্জের মুক্তাদির আহমেদ।

 উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের রনি মিয়া, নারায়ণগঞ্জের ইব্রাহিম মিয়া, মাদারীপুরের মোহাম্মদ মাসুদ, রনি মোল্লা ও সাইদ সরদার, নোয়াখালীর মাহমুদুল হাসান ও মঞ্জুর আলম, সিলেটের সিজুর আহমদ, মাহফুজ আহমদ, বিলাল আহমদ, শরীয়তপুরের শিশির মগডম, কিশোরগঞ্জের বাহাদুর, হবিগঞ্জের মামুন মিয়া ও বরিশালের আল আমিন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত