পরীক্ষায় লেটার মার্ক বাংলাদেশের

আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ০৪:২১ এএম

রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে চারজনকে মাঠে নামানো হলো। বিকল্প বোলিংয়ের শক্তি পরীক্ষা হয়ে গেল। ব্যাটিংয়ে বড় রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জ এলো সামনে। তাতেও লেটার মার্ক নিয়ে উত্তীর্ণ। গতকাল ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডকে বেশ সহজে হারিয়ে বাংলাদেশ আগামীকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের ওয়ার্ম আপটা করে নিল।

৬ উইকেটের এই জয়ে সবার আগে আসছে আবু জায়েদ রাহীর নাম। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই স্বপ্নের ৫ উইকেট তার শিকার। এরপর তামিম ইকবাল (৫৭), সৌম্য সরকারের বদলে নেমে লিটন দাসের (৭৬) ফিফটি, সাকিব আল হাসান (৫০ রিটায়ার্ড হার্ট), মুশফিকুর রহমান (৩৫), মাহমুদউল্লাহর (অপরাজিত ৩৫) দায়িত্ববোধ বাংলাদেশের আসল শক্তি ব্যাটিংকে মোটেও পরীক্ষার সামনে ফেলতে দেয়নি। শুধু দুশ্চিন্তা রেখে গেল সাকিবের পেশির ব্যথা নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়াটা।

৮ উইকেটে ২৯২ রান তুলেছিল আয়ারল্যান্ড টসে জিতে। এতটা তাড়া করার সুযোগ এই আসরে মেলেনি। এবার তা করতে গিয়ে ৪ উইকেটে হেসেখেলে ২৯৪। ৬ উইকেটের জয়। আগে ব্যাট করলে কেমন করে বাংলাদেশ তা এখনো এখানে অজানা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো লিগ পর্বের দুই ম্যাচে অনেক ক্লিনিক্যাল পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। আইরিশদের বিপক্ষে অবশ্য বোলিং চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এই প্রথম। যেখানে সøগ ওভারে ৪ উইকেট নিয়ে ৯-০-৫৮-৫ ম্যাচ ফিগারে খেলা শেষ করা সুইং বোলার আবু জায়েদ সবচেয়ে বড় বিজয়ী। আগের ম্যাচে অভিষেকে কোনো উইকেট পাননি। তার জায়গায় বিশ্বকাপ দলে তাসকিন আহমেদকে ঢোকানোর আলোচনাটা বুঝি থামল। উল্টো ব্যাকআপ বোলার হিসেবে দলে থাকা আবু জায়েদকে ফাইনালে রাখা নিয়ে মধুর সমস্যায় এখন বাংলাদেশ। গতকালের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ যে আবু জায়েদ।

আইরিশদের স্কোর বড় হওয়ায় অবশ্য বাংলাদেশের দুই ফিল্ডারের দুই অসতর্ক মুহূর্তকে দায়ী করতে হয়। পর পর দুই বলে দুই বোলারের বলে জীবন পেয়েছেন পল স্টার্লিং। শেষে ১৪১ বলে ১৩০ রান তার। নিজের ৫৭ ও ৫৮ রানের সময় আউট হতে পারতেন। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে সাব্বির রহমানের লং অফে মিস। পরের ওভারের প্রথম বলেই সাকিব আল হাসানের বলে পয়েন্টে সহজ ক্যাচ ছাড়েন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তখন অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের সঙ্গে মোটে ৪১/৪২ রানের জুটি স্টার্লিংয়ের। সেটা শেষে আইরিশ তৃতীয় উইকেটের রেকর্ড ১৭২। রানের হিসেবে তাদের ষষ্ঠ সেরা। জুটিতে ১৩০/১৩১ আর স্টার্লিংয়ের খাতায় বাড়তি ৭২/৭৩টি রান যোগ হলো। স্টার্লিং সøগ ওভারে সাকিবকে এক ওভারে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি ২৩ রান দেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতাও দিলেন।

সøগ ওভারে গিয়ে দ্রুত রান বাড়াতে ছুটল আয়ারল্যান্ড। নতুন বল আবু জায়েদ ও রুবেল হোসেনকে দিয়ে মাশরাফী ক্যারিয়ারে প্রথম ৬ নম্বরে বোলিংয়ে আসা বোলার। আগের দুই ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়ার প্রতিটিতে সøগ ওভারে আঘাত শুরু করেছিলেন। এবার ওখানে এক ওভারে ১৯ দেওয়ার অভিজ্ঞতা হলো। কিন্তু রুখে দাঁড়ালেন ওয়ানডেতে নবীন আবু জায়েদ। ব্যাটিং উইকেটে বোলিং জাদুতে পোর্টারফিল্ডকে (৯৪) সেঞ্চুরি করতে দিলেন না। পরেরটিতে মানে ৪৭তম ওভারে জোড়া আঘাত। কেভিন ও’ব্রায়েন (৩) ও স্টার্লিংকে ফেরান। ডেথ ওভারে মানসিক শক্তির প্রবল প্রকাশ দেখিয়ে ৪৯তম ওভারে গ্যারি উইলসনকে (১২) আউট করে ৫ উইকেট শিকারের দারুণ মুহূর্ত উপভোগ করে নিলেন। দেশের বাইরে ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া মাত্র চতুর্থ বোলার আবু জায়েদ।

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিশ্বকাপের আগে ধারাবাহিকভাবে শক্তি দেখিয়ে চলেছে। এবার তামিমের সঙ্গে লিটন দিলেন ১১৭ রানের জুটি। ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি তামিমের। ক্যারিয়ারের ৪৬তম। আউট হয়েছেন ৫৩ বলে ৯ চারে ৫৭ করে। লিটন ৬৭ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ করলেন। ৪৩ রানের জুটি সাকিবের সঙ্গে। তিন ম্যাচে ২ ফিফটি সাকিবের। ক্যারিয়ারের ৪২তম। ৫১ বলে ৪ চারে ৫০ করে পেশির টানে রিটায়ার্ড হার্ট তিনি। তাকে নিয়ে একটু শঙ্কা জাগল। মুশফিক ৩৩ বলে ৩৫ করেছেন। চারটি বাউন্ডারি। তার সঙ্গে সাকিবের তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি। এরপর মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে সাকিব গেলেন ২৪৭ পর্যন্ত। মোসাদ্দেক হোসেন সুযোগ পেয়ে ১৪ করলেন। সাব্বির রহমান অপরাজিত ৭ রানে। মাহমুদউল্লাহ খেলা দুই ম্যাচেই ত্রিশের ঘরে অপরাজিত। ফিরছেন বারবার জয় নিয়ে। এবার ২৯ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৫। ৫৩ সৌম্য, মোহাম্মদ মিঠুন, মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজকে বিশ্রাম দিয়েছিল বাংলাদেশ। খেললেন লিটন, রুবেল, মোসাদ্দেক, সাইফউদ্দিন। আগামীকালকের ফাইনালে পুরানো একাদশ সাজানোর আগে তো এক মধুর সমস্যাতেই বাংলাদেশ!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত