ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ৯৯ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করে তাদের নাম প্রকাশ করেছেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না-পাওয়ারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে নাম প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এই ৯৯ জনের মধ্যে অনেকেই হত্যাচেষ্টা ও মাদক মামলার আসামি, ইয়াবাসেবী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, বিবাহিত, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্ট। এর আগে গত বুধবার রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে ১৭ জনের নাম প্রকাশ করেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এদিকে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার ডোপ টেস্ট দাবি করেছেন পদবঞ্চিতরা।
গত সোমবার বিকেলে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে বিতর্কিতদের পদায়নের অভিযোগ এনে বঞ্চিতরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে হামলা করে ছাত্রলীগের আরেক অংশ। এ ঘটনার তিন দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ৯৯ জনের নাম প্রকাশ করেন বর্তমান কমিটির পদবঞ্চিত ও গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু। ওই সময় অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাইফ বাবু বলেন, ‘৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে শতাধিক বিতর্কিত হওয়ার পরও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মাত্র ১৭ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। আমরা তাদের আহ্বান জানাব, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতো সবাইকে খুঁজে বের করে সংগঠন থেকে বিতাড়ন করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, গঠনতন্ত্র-বহির্ভূত ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ হতে পারে না। এরা ছাত্রলীগের টিউমার, যা একসময় ক্যানসারে পরিণত হবে। তাদের ছাত্রলীগ থেকে বিতাড়ন করতে হবে। কারণ ছাত্রলীগ আদর্শের সংগঠন, অপকর্মকারীদের অভয়ারণ্য নয়। একই সঙ্গে যারা গত ১৩ মে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হামলা চালিয়েছে, তাদের ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে পদপ্রাপ্তদের মধ্যে সহ-সভাপতি পদে থাকা ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিতর্কের অভিযোগ আনা হয়। এতে দাবি করা হয়, সহ-সভাপতি তানজিল ভূইয়া তানভীর বয়স উত্তীর্ণ ও ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সম্মেলনের সময় তার বয়স ২৯ বছর ৬ মাস ১৭ দিন। একই পদের রেজাউল করিম সুমন চাকরিজীবী ও মাদকাসক্ত। আরেফিন সিদ্দিক সুজন মাদক ব্যবসায়ী। সূর্যসেন হলের তার নিজ কক্ষ ৩১৫ থেকে হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে মাদক উদ্ধার ও রুম সিলগালা করা হয়। তার বাবা মাদারীপুরের পাচখোলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন। আতিকুর রহমান খান মাদকাসক্ত ও অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত। বরকত হোসেন হাওলাদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার। আবু সালমান প্রধান শাওন মাদকাসক্ত ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ মাদকাসক্ত ও তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফুয়াদ রহমান খান বয়স উত্তীর্ণ ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত, সাদিক খান বিবাহিত, মাদকাসক্ত ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত, তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বিএনপি ও জামায়াতঘেঁষা পরিবারের সন্তান, এসএম তৌফিকুল হাসান সাগরের বাবা যুদ্ধাপরাধী, তৌহিদুর রহমান হিমেল ঠিকাদারি ব্যবসা করেন, মাহমুদুল হাসান জামায়াত পরিবারের সন্তান, সৃজন ভূইয়া অগ্রণী ব্যাংকের চাকরিজীবী। এ ছাড়া তৌহিদুর রহমান পরশ জীবনের প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পদ পেয়েছেন, কামাল খান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী, আবু সাইদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কৃত ও শিক্ষককে অপমান করায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, খালিদ হাসান নয়ন বয়স উত্তীর্ণ ও মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত এবং ডাকাতি মামলার আসামি, আমিনুল ইসলাম বুলবুল হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ও ৬ মামলার আসামি, রুহুল আমিন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিবাহিত, সোহানী হাসান তিথি একাধিকবার বিবাহিত, মাহমুদুল হাসান তুষার শিবিরকর্মী, এসএম হাসান আতিক ৩৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ও বিবাহিত, সুরঞ্জন ঘোষ বয়স উত্তীর্ণ, জিয়ান আল রশিদ ব্যবসায়ী ও গ্লোব কোম্পানির পরিচালক, সোহেল রানা বয়স উত্তীর্ণ ও প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পদ পাওয়া, মুনমুন নাহার বৈশাখী বিবাহিত ও জামায়াত পরিবারের সন্তান, তরিকুল ইসলাম ছয়টি মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ও নিয়োগ বাণিজ্য প্রতারণা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে প্রদীপ চৌধুরী নকলের দায়ে ঢাবি থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার ও সর্বশেষ পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ভাঙচুর করেন, শাকিল ভূইয়ার বাবা খোকন ভূইয়া মাদারীপুর পৌর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, মোর্শেদুল হাসান রুপম ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সাইফ বাবুর ভাষ্য, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম রাজাকার পরিবারের সন্তান, যৌন হয়রানিকারী ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, উপ-প্রচার সম্পাদক সিজাদ আরেফিন শাওন বিবাহিত ও সন্তানের বাবা, উপ-দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আব্দুল্লাহ বিন মুন্সি কোটা আন্দোলনের সংগঠক, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক সৌরভ নাথ লুবনান থেকে চাঁদাবাজির দায়ে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি, উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আফরিন লাবণী একাধিক বিবাহিত, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ফুয়াদ হাসান বয়স উত্তীর্ণ ও মাদক ব্যবসায়ী, উপ-পাঠাগার সম্পাদক রুশি চৌধুরী বিবাহিত, ধর্ম সম্পাদক তাজউদ্দিন কলেজ পর্যায়ে শিবিরের অর্থ সম্পাদক ছিলেন, উপ-গণশিক্ষা সম্পাদক মনিরুজ্জামান তরুণ প্রথম পদ পাওয়া, উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক সালেকুর রহমান শাকিল প্রথম পদ পাওয়া, উপ-স্বাস্থ্য সম্পাদক শাহজালাল প্রথম পদ পাওয়া ও সাবেক শিবিরকর্মী, উপ-গণযোগাযোগ সম্পাদক সালাউদ্দিন জসিম ওয়ারী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও বিবাহিত, একই পদের শোভন অর্ক বাংলাট্রিবিউন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আসিফ ইকবাল অনিক বিবাহিত, উপ-বেসরকারি সম্পাদক মো. তুষার প্রথমবার পদ পাওয়া, একই পদের রাকিবুল ইসলাম সাকিব বিবাহিত, উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক শাহরিয়ার মাহমুদ রাজুকে জসীমউদদীন হলের ৩২১ নম্বর কক্ষ থেকে ইয়াবা সেবনকালে হল প্রভোস্টের সহায়তায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এ ছাড়া উপ-মানবসম্পদ সম্পাদক হিরণ ভূঁইয়া ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কৃত, কৃষি সম্পাদক এস এম মাসুদুর রহমান মিঠু বিবাহিত, উপ-কর্মসংস্থান সম্পাদক অভিমন্যু বিশ্বাস ইউনানী ওষুধ ব্যবসায়ী, সহ-সম্পাদক জাফর আহমেদ ইমন ছাত্রদল নেতা ও প্রথম পদ পাওয়া, একই পদের তানভীর আব্দুল্লাহ ব্যবসায়ী ও প্রথমবারের মতো পদ পাওয়া, সামিহা সরকার বিবাহিত। তার বাবা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিএনপি মনোনীত ওয়ার্ড কাউন্সিলর।
পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, সহ-সম্পাদক ফারজানা ইসলাম রাখি বিবাহিত, তামান্না তাসনিম তমা বিবাহিত ও প্রথম পদ পাওয়া, মেহেদী হাসান রাজু এসআই পরীক্ষার প্রক্সি দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি। একই পদের আঞ্জুমান আরা অনু বিবাহিত ও প্রশ্নফাঁস জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত, আসিফ রায়হানের বাবা চাঁদপুরের একটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, শফিকুল ইসলাম কোতোয়াল প্রথমবারের মতো পদ পান, শেখ আরজু বিবাহিত।
পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, সদস্যদের মধ্যে ফয়সাল করিম দাউদ খান প্রথম পদ পাওয়া, উপ-কর্মসংস্থান সম্পাদক আল ইমরানের বাবা জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত ও প্রথম পদ পাওয়া, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান লিখন প্রথমবারের মতো পদ পাওয়া, সহ-সম্পাদক সোহেল রানা শান্ত আজীবন বহিষ্কার, উপ-মানব সম্পাদক বেলাল মুন্না বিবাহিত, উপ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মেসকাত হোসেন সাংবাদিকদের কক্ষ ভাঙচুর করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সহ-সভাপতিদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম সাবেক চাকরিজীবী ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত, ফরহাদ হোসেন তপু বিবাহিত, তানজীদুল ইসলাম শিমুলকে বিগত চার থেকে পাঁচ বছর ছাত্রলীগের কোনো মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যায়নি। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহান ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তিনি মাদকাসক্ত ও মাদকব্যবসায়ী। উপ-প্রচার সম্পাদক আরিফ শেখ পুলিশের কাছে মাদকসহ আটক হন। উপ-ক্রীড়া সম্পাদক বায়েজিদ কোতোয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নফাঁসে জড়িত, উপ-অর্থ সম্পাদক মহসিন খন্দকার সাধারণ সম্পাদকের বাসা দেখাশোনা করেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রাকিনুল হক চৌধুরী সভাপতি শোভনের সহোদর, সহ-সম্পাদক রনি চৌধুরী মুন্সীগঞ্জের কোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আসিফ হাওলাদার হত্যা মামলার আসামি, সহ-সভাপতি এম সাজ্জাদ হোসেন ছাত্রলীগের প্রথম পদ পাওয়া ও বিবাহিত, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক এস এম মাহবুবুর রহমান সালেহী দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়। সহ-সম্পাদক ওমর ফারুখ পাংকুর চাচা শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, বাবা শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি। সহ-সভাপতি আলিমুল হক পয়লা বৈশাখের কনসার্টে অগ্নিসংযোগকারী। বড় ভাই মঞ্জিল হক একটি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা, অর্থ সম্পাদক রাকিব হোসেনের সহোদর রাজু আহমেদ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। তার মামা অ্যাডভোকেট হেলাল আকন্দ শরীয়তপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। উপ-স্বাস্থ্য সম্পাদক শফিউল ইসলাম সজিব ৩৯তম বিসিএসের সহকারী সার্জন হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ও ছাত্রলীগের প্রথম পদ পাওয়া।
সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মিরাজ বিএনপি পরিবারের সন্তান, সহ-সভাপতি রাকিব উদ্দিন ঠিকাদার। সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সহ-সম্পাদক রেজাউল করিম বিবাহিত, বয়সউত্তীর্ণ ও মাদকের মামলার আসামি, উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ফেরদৌস শাহরিয়ার নিলয় বিএনপি পরিবারের, উপ-প্রচার সম্পাদক নিলায়ন বাপ্পী বিবাহিত, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোমিন শাহরিয়ার মামলার আসামি, উপ-নাট্যবিতর্ক সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী, উপ-গণযোগাযোগ ও উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হুদা সুমন বিবাহিত, উপ-কৃষি শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক রবিউল ইসলাম হাসিব মীর ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।
সদস্য ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি সাবেক চাকরিজীবী, পাঠাগার সম্পাদক জাভেদ হোসেনের বাবা জামায়াতকর্মী, চাচা কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আইন সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাৎ বিবাহিত, উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক সালেকুর রহমান শাকিলের বাবা ভুরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক, একই পদের আরিফ হোসেন বিএনপি পরিবারের সন্তান। উপ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক শফিউল ইসলাম সজিব বিএনপি পরিবারের সন্তান। সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম জহিরের বাবা ইদ্রিস চৌধুরী শোভন একটি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি, তার মেজভাই গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী পুটিয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের ডোপ টেস্ট করাতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনের পর ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপসম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি মাস্টার দা সূর্য সেন হলের প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি। দলের দুঃসময়ে আমি রাজপথে ছিলাম। আমার বাবা আবু ইউসুফ বগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১নং সহ-সভাপতি এবং আমার মা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তা ছাড়াও আমি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। তার পরও আমাকে সদ্য ঘোষিত ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি কেন তা আমি জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার একাধিকবার বিএনপির মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবুও আমি রাজপথ ছাড়িনি।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, জসীম উদদীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, কুয়েত-মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীন প্রমুখ।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন করে তালিকা প্রকাশের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ফোন দেওয়া হলেও কলটি রিসিভ হয়নি।
১৭ জনের তালিকা কেন্দ্রীয় নেতাদের : পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির তালিকায় উঠে এসেছে ১৭ জনের নাম। তাদের নির্দোষ প্রমাণ করতে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। গত বুধবার গভীর রাতে ধানমণ্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা। এর মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা আরেফিন সিদ্দিকী সুজন ও আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। আর শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে বরকত হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। কমিটিতে স্থান পেলেও বয়সসীমা পার হয়েছে সুরঞ্জন ঘোষ ও তানজীল ভূঁইয়া তানভীরের। সংগঠনের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের বিরুদ্ধে। মাহমুদুল হাসান তুষার মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে চেতনা ধারণ করেন বলে অভিযোগ। এ ছাড়া পরিবারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তৌফিক হাসান সাগরের বিরুদ্ধে। কমিটিতে স্থান পাওয়া আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নামে মামলা রয়েছে। চাকরি করছেন আহসান হাবীব। বিবাহিত বলে অভিযোগ এসেছে সাদিক খান, সোহানী হাসান তিথি, রুশি চৌধুরী, মুনমুন নাহার বৈশাখী ও আফরিন লাবণীর বিরুদ্ধে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অভিযোগগুলো এসেছে জানিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের কেউ অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে পারলে তা যাচাইবাছাই করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এর স্থলে যোগ্যতা অনুযায়ী বঞ্চিতদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
